সফল টার্কি খামারি আকরাম

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
প্রবাসী অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে টার্কি পাখি খামারি হিসেবে সফলতা অর্জন করেছেন আকরাম আহমদ নামের এক যুবক।
মাত্র ২০টি টার্কি পাখির বাচ্চা নিয়ে আকরাম গড়ে তোলেন টার্কি খামার। বর্তমানে তার খামারে ৫০টি টার্কি পাখি রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ রয়েছে ২০টি ও নারী টার্কি আছে ৩০টি। এছাড়াও টার্কির বাচ্চা রয়েছে দুইশতাধিক। খামারি জানিয়েছেন টার্কি পাখি লাভজনক। প্রতিমাসেই তার দ্বিগুণ লাভ হচ্ছে।
জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌরশহরের হবিবপুর (শাহপুর) এলাকার বাসিন্দা মৃত মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আকরাম আহমদ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করে বেকার না থেকে কিছু একটা কাজ করার জন্য প্রচন্ড আগ্রহী হয়ে উঠেন। বেকারত্ব ঘুচাতে কী করা যায়, এনিয়ে ভাবতে থাকেন আকরাম। এক সময় তিনি জানতে পারেন টার্কি পাখি লালনপালন করে বাংলাদেশে অনেক খামারি লাভবান হচ্ছে। এটা জানার পর আকরাম ঝুঁেক পড়েন টার্কি পাখি খামারের প্রতি।
আকরাম আহমদ এ প্রতিবেদককে জানান, মা ও দুই বোন নিয়ে নিয়ে তাদের সংসার। সংসারের বড় ছেলে তিনি। বাবা নেই। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর যখন ভাবছি রোজগারের জন্য কী করা যায় তখন ইউটিউব’এ জানা গেল বাংলাদেশে টার্কি পাখি পালন করা হচ্ছে। সঠিকভাবে খামার করলে দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব। এতে উৎসাসিহ হয়ে ২০১৬ সালের দিকে ভারতে গিয়ে সেখানকার বিভিন্ন টার্কি খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেখানে কিছুদিন অবস্থান করে একটি খামারে নিজে কাজ করে কিছুটা অভিজ্ঞতা অর্জন করে এক মাস বয়সী ২০টি টার্কি পাখির বাচ্চা প্রতিটি এক হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে এনে নিজের বাড়ির ছাদে ও বারান্দায় খামার গড়ে তুলি। ধীরে ধীরে সফলভাবে পাখিগুলো লালন পালন করে সফলতার সঙ্গে বড় করতে সক্ষম হই। ৬ থেকে ৭ মাস বয়সে টার্কি ডিম দেয়া শুরু করে। এক একটি মা পাখি ৩০টি ডিম দিতে পারে। ১৫ থেকে ২০দিন পর পর ডিম দেয় মা পাখিগুলো। তার খামারে টার্কি’ পাখির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বারবন রেড টার্কি, রয়েল টার্কি, ব্রুঞ্জ টার্কি, ব্রাক টার্কি। এর মধ্যে বারবন রেড টার্কি সারা বিশ্বে সৌখিন হিসেবে পরিচিত।
আকরাম আহমদ জানান, ইনকিউবেটারের মাধ্যমে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। এক মাস বয়সের একটি বাচ্চা পাখি বিক্রি হয় পাচঁশত টাকায়। ছয় থেকে আট মাস বয়সের একটি পুরুষ টার্কি পাখির ওজন আট থেকে দশ কেজি হয়। এবং একটি নারী টার্কির ওজন পাঁচ থেকে ছয় কেজি হয়। এগুলো প্রতি জোড়া বিক্রয় হয় সাত হাজার টাকা দরে।
খামারি আকরাম জানান, জগন্নাথপুরসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানের ক্রেতারা খামারে এসে উৎপাদিত ডিম, বাচ্চা টার্কি ও এ্যাডাল্ট টার্কি ক্রয় করছেন। টার্কি পাখির মাংস খেতে সুস্বাদু। এর চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে।
টার্কি পাখির প্রধান খাবার হচ্ছে ঘাস। এছাড়াও পাতাকপি, কচুরিপানা এবং দানাদার খাবার টার্কি পাখির প্রিয় খাবার। যে কেউ অনায়াসে টার্কি পালন করে লাভবান হতে পারেন। তাছাড়া টার্কি চিকিৎসা ব্যয় খুব কম। টার্কির রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই প্রবল ।
আকরাম আহমেদ বলেন, প্রথমে খামার গড়ে তুলতে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে টার্কি পাখি ও তার ডিম বিক্রি করে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মাসে আয় হচ্ছে।
আকরাম জানান, টার্কি পাখির মাংসের সুখ্যাতি বিশ্বজুড়ে। অল্প সময়ের মধ্যে এবং কম খরচে টার্কি খামার গড়ে তোলা সম্ভব।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ কামরুল আহমেদ খান বলেন, আমরা খামারিদের সবসময় সঠিক পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করছি । টার্কি তুলনামূলক কম খরচে পালন সম্ভব বলে এর মাধ্যমে খামারিরা সহজে লাভবান হতে পারেন। টার্কি দ্রুত বেড়ে উঠে এবং এর মাংস চর্বিমুক্ত, খেতে খুবই সুস্বাদু।