সবজি নেই বাজারে

আকরাম উদ্দিন
বন্যার প্রভাব পড়েছে সুনামগঞ্জের সবজি বাজরে। সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় সুনামগঞ্জের বাজারে সবজির সংকট দেখা দিয়েছে। সবজি না পাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ীরা তাঁদের দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী বাইরের জেলা থেকে সবজি এনে বিক্রি করছেন। তাও পরিমাণে খুবই কম। সবজির দামও দ্বিগুণ। ৬০ দিনের মধ্যেই স্থানীয় সবজি বাজারে আসবে বলে জানিয়েছে কৃষি কর্মকর্তারা।
একাধিক সবজি চাষী জানান, বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর বীজ থেকে চারা তোলতে সময় লাগবে কমপক্ষে ১০ দিন। চারা রোপন করার পর সবজি মোটা হতে সময় লাগবে আরও এক মাস থেকে দেড় মাস। এরপর বাজারে আসা শুরু হবে স্থানীয় সবজি।
শনিবার শহরের জেল রোড এলাকার সবজির বাজারের মাত্র কয়েকটি দোকানে কচুরমুরা, লতা, মুখি, পালং শাক, টমেটো, আলু, কাঁচ কলা বিক্রি করতে দেখা গেছে। কালীবাড়ি পয়েন্টে ৩-৪টি নামেমাত্র সবজির দোকান ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত সবজি ছিল না তাঁদের দোকানে। ইতিমধ্যে বাজারের অনেক সবজির দোকান বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলরোড এলাকায় বাইরের জেলার কাচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি, কাকরুল ৪০ টাকা কেজি, করলা ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, ঢুগি দুই আঁটি ১৫ টাকা, ছিচিংগা ও জিংগা ৩৫ টাকা কেজি, টমেটো ৬০ টাকা প্রতি কেজি। এসব সবজির মানও তেমন ভাল নয়। গত বছরের তুলনায় এই সময়ে বাজারে দ্বিগুণ দাম সবজির।
সবজি বাজারের ব্যবসায়ী খোকন মিয়া, ঝন্টু দাস, গোবিন্দ সরকার, আব্দুছ সাত্তার, ফারুক মিয়া জানান, বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কোনো সবজি নেই। সকল প্রকার সবজি নষ্ট হয়ে গেছে দুই দফা বন্যায়।
এখন ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বগুড়া এবং মোহনগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জের বাজারে আনতে হয় সবজি। এইসব জেলা থেকে সবজি আনতে সময় লাগে বেশি। সুনামগঞ্জে পৌঁছতে কিছু সবজি নষ্টও হয়ে যায়। যাতায়াত খরচ ও পড়ে বেশি। এই জন্য সবজির দাম বাজারে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
স্থানীয় সবজি না পাওয়ায় এবং বাইরের জেলার সবজি এনে তেমন লাভবান না হওয়ায় ইতিমধ্যে সবজি ব্যবসায়ী গোলাপ মিয়া, কদর আলী, সুমন মিয়া, হাফিজ মিয়া, সুয়েল মিয়াসহ আরও অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে যারা ব্যবসা করছেন, তারাও সবজির দোকান বন্ধ করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
সবজি বাজারের ক্রেতা মোহাম্মদ মাহমুদুল হোসেন বলেন, বাজারে সবজি নেই। কচুরমুরা ও লতায় পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছি। কয়দিন পর তাও যদি না পাই, তখন কি উপায় হবে আমাদের।
সবজি বাজারের ব্যবসায়ী সাজ্জাদুর রহমান বলেন,আমার দোকানে ঢুগি, কচুরমুরা, কাঁচ কলা ও মুখি বিক্রি করছি। সবজির আমদানী নেই। এই সবজি শেষ হলে দোকান বন্ধ করে দেবো।
সৈয়দপুর গ্রামের কৃষক নাদীর শাহ বলেন,আমাদের এলাকার সকল সবজি খেত নষ্ট হয়ে বন্যায়। এখন নতুনভাবে সবজি লাগাতে হবে। সবজি মোটা হতে অনেক সময় লাগবে।
মঙ্গলকাটা বাজারের ব্যবসায়ী মো. আব্দুর রব বলেন,সুরমার উত্তরপাড়ের সকল সবজির জমি বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বীজ থেকে চারা তোলতে হবে। চারা রোপন করার পর সবজি বড় হতে সময় লাগবে আরও দেড় মাস। এরপর বাজারে আসবে সকল প্রকার সবজি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, বন্যায় সদর উপজেলার ১০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বীজ থেকে চারা তোলতে সময় লাগবে প্রায় ১০ দিন। এই চারা রোপন করার পর সবজি বড় হতে আরও দেড় মাস সময় লাগবে। তবে কোনো কোনো সবজি আছে, এই সবজিগুলো চারা রোপনের একমাসের মধ্যে বড় হবে এবং বাজারে বিক্রির উপযুক্ত হয়ে উঠবে।