সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তোললেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ সভায় এসব অভিযোগ করলেন তিনি।
সিরাজুর রহমান সিরাজ বলেন,‘ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে আরও সমন্বয় থাকা দরকার। উনাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে মনে করি।’
তিনি আরও বলেন,‘জেলা কমিটি গঠনের ৩-৪ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোন পরিচিতি সভাই হয়নি। কারা জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে আছেন তা আমরা জানি না ও একজন আরেকজনকে চিনি না। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণে ঢাকায় থাকলে কারা নেতৃত্ব দিবেন তা পরিস্কার করতে হবে। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে পৃথকভাবে অন্যদের দায়িত্বভার দিতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় সাংগঠনিক সফর করতে হবে। তৃণমুল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করতে হবে। ’
তবে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেছেন সভায় উপস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন।
ব্যারিস্টর এম এনামুল কবির ইমন বলেন,‘ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ একটি পরিবার। আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ বা দ্বন্দ্ব নেই, আমরা ঐক্যবদ্ধ। কেন্দ্রের নির্দেশে কম সময়ে বিশেষ সভা আহবান করায় সময় নিয়ে এদিক-সেদিক হয়েছে। সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগসহ সকল অঙ্গ সংগঠন ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সকল অপতৎপরতা প্রতিহত করব।’
তিনি আরও বলেন,‘রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। তবে দ্বন্দ্ব- গ্রুপিং সৃষ্টি করা শুভকর নয়। সকল অঙ্গ সংগঠনকে জেলা আওয়ামী লীগের সাথে সমন্বয় করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে হবে। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের অফিসে হামলার পর দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে সুনামগঞ্জে মিছিল করেছে। অতি উৎসাহী হয়ে কখনই কোন কিছু করা ঠিক নয়।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান অভিযোগকারী সিরাজুর রহমান সিরাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন,‘ কারো ভুল ত্রুটি হলে তা সংশোধন করার সুযোগ দিতে হবে। তুমি আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছো, তোমার বিরুদ্ধেও তো অনেক অভিযোগ আছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দলকে পরিচালনা করব। দেশের অন্য এলাকা থেকে সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী। জেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ছিল, ঐকবদ্ধ আছে। সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনই আওয়ামী লীগকে দিতে হবে। আগামী নির্বাচনে আমরা পাঁচটি আসনেই বিজয়ী হতে চাই। গুজব সৃষ্টিকারীদের প্রতি সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ফেইসবুকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তকারীদের প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে হবে। ’