সভাপতি পদে ৩, সম্পাদক পদে ২ নেতা তদবিরে ব্যস্ত

স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘ ৭ বছর পর সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। সভাপতি হিসাবে ৩ জনের এবং সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ২ যুব নেতার নাম কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে। এই ৫ জন এখন তদবিরে ব্যস্ত।
২০১১ সালে আনছার উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করে দেওয়া হয়। কমিটির সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক ছিলেন এটিএম হেলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব হোসেন জাহিদ (২০১৩ সালে ইন্তেকাল করেন), সোহেল আহমদ ও অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ।
এই আহ্বায়ক কমিটিকে ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের ৭ বছর কেটেছে ৩১ সদস্যের এই কমিটিতে। বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সারাদেশের যুবদলের কমিটি করার নির্দেশনা দেওয়ায় সুনামগঞ্জের নেতৃবৃন্দ ঢাকায় দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে এসেছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে।
যুবদলের একাধিক নেতা জানান, সভাপতি পদে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল মুনসুর শওকত, সাবেক সভাপতি জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক এটিএম হেলাল ও জেলা যুবদলের যুগ্মআহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ’এর নামসহ জীবন বৃত্তান্ত দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুহেল আহমদ ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মআহ্বায়ক কামরুল হাসান রাজু’র নাম দেওয়া হয়েছে।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনছার উদ্দিন বলেন,‘বিএনপি নেতৃবৃন্দ নির্দেশ দিয়েছেন আগামী ১০ জুনের মধ্যে দেশব্যাপি যুবদলের কমিটি করে দেবার জন্য। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নেতৃত্ব বাছাই করছেন। আমি শুনেছি দুটি কমিটি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে দেওয়া হয়েছে। একটির সভাপতি প্রস্তাব করা হয়েছে অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ এবং অন্যটির এটিএম হেলাল। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল মুনসুর শওকত বলেন,‘সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদক জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। গত প্রায় ২৫ বছর ধরে শহীদ জিয়ার আদর্শ লালন করে রাজপথে আছি। জেল খেটেছি। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে মূল্যায়ন করবেন বলেই বিশ্বাস করি আমি।’
জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক এটিএম হেলাল বলেন,‘আমি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলাম। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি ২ বার। যুবদলের বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক। আশা করছি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন করবেন।’
অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ বলেন,‘যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পাবার পর সংগঠনের সকল কর্মসূচিতে আমার অংশগ্রহণ ছিল। সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য গত ৭ বছর কাজ করেছি। ক্রান্তিকালে আমি রাজপথে ছিলাম। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবশ্যই এসব বিষয় মূল্যায়ন করবেন মনে করি আমি।’
জেলা যুবদলের যুগ্মআহ্বায়ক সোহেল আহমদ বলেন,‘আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজপথের মানুষ। গত ৭ বছর যুবদলের যত বড় শো-ডাউন হয়েছে সবগুলো আমার পরিশ্রমে হয়েছে। আমি জেল খেটেছি, এখনো মামলা আছে। আমার জ্যেষ্ঠ আবুল মুনসুর শওকত ও এটিএম হেলাল। তাঁরা ছাড়া অন্য কাউকে দায়িত্ব দিলে অবশ্যই আমাকে মূল্যায়ন করা হবে। আমি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী। দল অবশ্যই আমার ত্যাগ বিবেচনায় নেবে।’
জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মআহ্বায়ক কামরুল হাসান রাজু বলেন,‘আমি দলের নেতাদের অনুগত, শহীদ জিয়ার আদর্শ লালন করে সার্বক্ষণিক দলের জন্য শ্রম দেই। কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি অবিচল আস্থা আমার।’