সমস্যা দেড় কিলোমিটারে- আটকে আছে ২২ কি.মি. সড়কের কাজ

জগন্নাথপুর অফিস
৭৯ টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ১৪ টি রেন্ট্রি গাছ সুনামগঞ্জবাসীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। সুনামগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষে এই সড়কের কাজ সম্প্রতি শুরু হলেও কাজ শেষ হচ্ছে না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটা না সরালে তাদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়।
স্থানীয়রা জানান, পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর পৌরসভা অংশের ইকড়ছই আলখানাপাড় স্লুইসগেটের সামনে থেকে হবিবনগর পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কে বড় বড় খানাখন্দে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে । এর মধ্যে সড়কের পাশের পৌরসভার ড্রেনের নালার পানি জমে সড়কে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। গত চার বছর ধরে জগন্নাথপুর পৌরসভার নাগরিকদের পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলে আসছেন সড়কটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের। তাই তারা এখানে কোন কাজ করতে পারছেন না। সম্প্রতি সওজ কর্তৃপক্ষ সড়কের পৌরসভার অংশে দেড় কিলোমিটার আরসিসিসহ ২২ কিলোমিটার অংশে সংস্কার কাজের দরপত্র আহ্বান করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএমবিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ইন্সপ্যাকটা ইঞ্জিনিয়ারিং জেবি ৮২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে এপ্রিল মাসে সড়কের কাজের কার্যাদেশ পায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটা থাকায় দেড় কিলোমিটার অংশে কাজ করছে না তারা।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ বলেন,‘সড়কের দেড় কিলোমিটার ছাড়া অন্য অংশে কাজ চলমান রয়েছে। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কাজ শেষ করতে বিলম্ব হবে। বিষয়টি আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীকেও জানিয়েছি।’
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান,‘জগন্নাথপুর পৌরসভা অংশে দেড় কিলোমিটার সড়কের ড্রেনসহ ৩৮ ফুট জমি প্রয়োজন। কিছু অংশে ২০ থেকে ৩০ ফুটের মধ্যে ৭৯টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ১৪টি রেন্ট্রি গাছ ও জগন্নাথপুর থানার সীমানা প্রাচীর রয়েছে। এগুলো অপসারণ করা না গেলে ঠিকাদার কাজ করতে পারবে না।’
জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল মনাফ বলেন, ‘দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করতে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো স্থানান্তর ও অপ্রয়োজনীয় রেন্ট্রিগাছগুলো কর্তন করা প্রয়োজন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীকেও অবহিত করেছি আমি।’
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) এস.এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের কাজ যথাসময়ে শেষ করতে দ্রুত বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো স্থানান্তর, রেন্ট্রি গাছগুলো কর্তন করতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আশা করি এসব সমস্যা দূর করে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।’
সুনামগঞ্জ- ৩ আসনের সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সওজ ও পৌর কর্তৃপক্ষ আমাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। আমি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলব।’