সম্ভাবনার রানীগঞ্জ সেতুর কাজ এগিয়ে চলছে

অমিত দেব/আলী আহমদ
সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জে পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি (আব্দুস সামাদ আজাদ ) মহাসড়কের কুশিয়ারা নদীর ওপর সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম সেতু রানীগঞ্জ সেতুর কাজ চলছে দূর্বার গতিতে। নির্মাণাধীন সেতুটি ঘিরে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনায় বিভোর এলাকাবাসী। সেতুটির কাজ শেষ হলে অত্র এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সম্ভাবনার এক সোনালী অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেতুটি সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন জেলাবাসী।
সম্প্রতি সেতুর নির্মাণ কাজ পরির্দশন করে দ্রæত সেতুটির কাজ শেষ করার কথা বলেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। আগামী বছর সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৯৯ সালে প্রয়াত আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় নেতা তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জ থেকে রাজধানীতে স্বল্প সময়ে যাতায়াত করতে পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি মহাসড়কের কাজ শুরু করেন। ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর মহাসড়কের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক সচিব এমএ মান্নান। এসময় সুনামগঞ্জবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে তাঁর প্রচেষ্টায় মহাসড়কের কাজ আবারো জোরেশোরে চালু হয়। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে সড়কটি স্থান পায়। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় এলে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এমএ মান্নান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালে কুশিয়ারা নদীর ওপর ফেরি সার্ভিস চালু করে সড়কটি চালু করা হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান রানীগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ৭০২.৩২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.২৫ মিটার প্রস্তের ১৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির কাজ পায় এমএম বিল্লার্স অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। সেতুটির ১৫টি স্প্যান ও ১৪টি পেয়ার থাকবে। ১৫টি স্প্যানের মধ্যে ১২টি স্প্যান বক্স গার্ডার। অ্যাপ্রোচ সড়ক আড়াই কিলোমিটার।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, সুনামগঞ্জের সিংহদ্বার হিসেবে খ্যাত রানীগঞ্জ সেতুটি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। সুনামগঞ্জ থেকে রাজধানীতে যাতায়াতে ৫২ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে।
লন্ডনের বাংলামিরর পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল করিম গনি বলেন, রানীগঞ্জ সেতুর কাজ শেষ হলে রাজধানীর সাথে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সহজ হবে। অনেক প্রবাসী ছোটখাটো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে এগিয়ে আসবেন।
জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের প্রবীণ ট্রাস্টি নুরুল হক লালা মিয়া বলেন, রানীগঞ্জ সেতুটি সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এজন্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ সড়কের কাজ শুরু করে স্বপ্ন বাস্তবায়নের সূচনা করেছিলেন। আর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সেই স্বপ্নের পুরোপুরি বাস্তবায়ন করছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, সেতুটির কাজ শেষ হলে আমাদের জন্য সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন হবে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যে সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আমরা দৃঢ় আশাবাদী ফেব্রæয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে সেতুর ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুটি সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলেই বিশ্বাস করি আমি।