‘সম্মেলন বানচালের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা’

স্টাফ রিপোর্টার
প্রায় এখঘণ্টা দুইপক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর বেলা দুইটায় জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের চেষ্টায় কিছু মানুষ দিরাই বিএডিসি মাঠে ফেরেন। সেখানে বক্তব্য প্রধান শুরু হলে, জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক বললেন, সভা শেষ করেই আমরা সুনামগঞ্জে ফিরব। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলব, নেতৃবৃন্দসহ ঢাকায় কথা বলব। আমরা এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবো, যাতে আর কোন সম্মেলনে এমন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের দুঃসাহস কেউ না দেখায়।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামীলীগ দিরাই-শাল্লায় থাকবে, সুনামগঞ্জে থাকবে। এখানে আব্দুস সামাদ আজাদ প্রতিনিধিত্ব করেছেন, জাতীয় নেতা সুরঞ্জিন সেনগুপ্ত প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাদের প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, দিরাই শাল্লায় যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে এবং যারা করেছেন, তারা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হতে পারেন না। এরা কুলাঙ্গার। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলে, জাতীয় নেতাদের সামনে এই ধরনের আচরণ করতে পারতো না। তারা দুই চারজন সন্ত্রাসী নিয়ে দুই চারটা ইট পাটকেল মেরে মনে করেছে আওয়ামীলীগের সভা প- করে দেবে। আওয়ামীলীগ তো এই রকম পার্টি না। আওয়ামীলীগ এই দেশের মানুষের শ্রম ঘাম রক্তে গড়া সংগঠন। আওয়ামীলীগ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা সংগঠন। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে এই দেশের মহান স্বাধীনতা এসেছে। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আজ দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত রয়েছে। কাজেই কয়েকজন লোক যদি মনে করে অন্যান্য হাইব্রিড পার্টির মতো আপনারা যা খুশি তাই করবেন, এটি অন্তত আওয়ামীলীগে হবে না।
ড. জয়া সেন গুপ্তা বললেন, সম্মেলন বানচাল করার অপচেষ্টাকারীরা আওয়ামী লীগের হতে পারে না। এতো কিছুর পরেও সম্মেলনস্থল যারা ছাড়েননি তিনি তাদেরকে ধন্যবাদ জানান।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন বলেন, এই ধরনের হামলা কেউ আশা করেনি। এতো বড় স্পর্ধা। আমরা ছাত্রলীগ, যুবলীগ করেছি। আওয়ামীলীগ করছি, কিন্তু এই ধরনের স্পর্ধা কেউ দেখিয়েছে বলে নজির নাই।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, যারা আক্রমণ করেছে তাদের শায়েস্তা করার ক্ষমতা শেখ হাসিনার আছে। সম্মেলন বানচাল করার জন্য যারা অপচেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংঘর্ষে আহত একজন মারা গেছেন। পুলিশ প্রশাসনকে এর জবাব দিতেই হবে। এইখানে কারা পুলিশ কন্ট্রোল করেছে। এসব বিষয় আমরা খতিয়ে দেখবো।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ পুলিশের সমালোচনার সরাসরি জবাব না দিয়ে অবশ্য গণমাধ্যম কর্মীদের বললেন, আমাদের ব্যাপক নিরাপত্তা ছিল। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। স্বাভাবিক আছে।