সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হোক

জেলায় এ বছর যখন কম-বেশি ১২ লাখ মে.টন ধান উৎপাদিত হয়েছে সেখানে সরকার মাত্র ৬ হাজার মে.টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সরকারি এই সিদ্ধান্তে সারা জেলার কৃষকদের মধ্যে ভীষণ হতাশা নেমে এসেছে। সরকার ধান কম পরিমাণে কিনবেন এমন খবর চাওর হওয়ার প্রেক্ষিতে হাওরে ধানের দরপতনের বিষয়টিও কৃষকদের শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর পর ২ বছর পর এবছর ভাল ফলন হওয়ায় কৃষকদের মনে যে খুশি তৈরি হয়েছিল এমন সিদ্ধান্তে তা আজ বিষাদে রূপান্তরিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষক থেকে শুরু করে কৃষক নেতৃবৃন্দ সকলেই একবাক্যে হাওরাঞ্চলে বোরো মৌসুমে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। কৃষক নেতারা বলেছেন সরকার হাওর থেকে ধান কিনে যদি কিছু ভর্তুকিও দিয়ে থাকেন আখেরে সেটি জাতীয়ভাবে কৃষি ও কৃষকের মঙ্গলই ডেকে আনবে। কৃষিনির্ভর জাতীয় অর্থনীতির জন্য এরকম ভর্তুকি বা প্রণোদনা দেয়া সরকারের জন্য বড় কোন ব্যাপার নয় বলেই মনে করছেন তারা।
একদিকে সরকার ধান কিনছেন না, অন্যদিকে আড়ৎদাররা দেশে ধানের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে দাবি করে ধানের দাম কমিয়ে দিয়েছেন, এরকম এক ভজকট অবস্থায় লাভের গুড় উঠবে গিয়ে বেসরকারি ফড়িয়া ও মিলমালিকদের পকেটে। কারণ সরকার যে পরিমাণ ধান কিনবে তার চাইতে অনেক বেশি পরিমাণে কিনবে চাল। চাল সরবরাহ করবেন মিলাররা। মাঠ থেকে কম দামে ধান কিনে সেই ধান কলে চাল বানিয়ে প্রায় দ্বিগুণ মুনাফা কামিয়ে নিবেন তারা। অনুৎপাদনশীল এই প্রভাবশালী ক্ষুদ্র গোষ্ঠীটির স্বার্থের কাছে আজ দেশের বৃহত্তর কৃষক সমাজের স্বার্থ গৌণ হয়ে উঠেছে। এমন রাষ্ট্রীয় কর্মকৌশল কখনও কাম্য নয়। সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কর্মসূচীর দ্বিবিধ উদ্দেশ্যের মধ্যে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তোলার সাথে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তুর্ভুক্ত। এখন এই কর্মসূচীর যাবতীয় সুফল যদি গুটিকয় মিল মালিকের পকেটকে স্ফীত করে তখন সরকারি উদ্দেশ্যটিকে সফল মনে করার কারণ নেই। সরকারের নীতিনির্ধারকদের দ্রুত বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে।
কৃষক নেতৃবৃন্দ বলছেন, বোরো মৌসুমে খাদ্য বিভাগকে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের নিকট থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের জন্য। অতীতে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বা বাজারগুলোতে সরকারি ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা ছিল দাবি করে তারা সেই ব্যবস্থার পুনর্বহাল দাবি করেছেন। কৃষক নেতৃবৃন্দের এই দাবিকে গুরুত্ব দিতে হবে। উৎপাদনকারী কৃষক যদি ন্যায্যমূল্য না পান তাহলে কৃষি ব্যবস্থা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নিবেন। আর কোন কারণে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা বিপর্যস্থ হলে গোটা অর্থনীতি বেসামাল হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতার জায়গায় একমাত্র মৌলিক খাত হলো কৃষি। কৃষির গুরুত্ব কমিয়ে ফেললে অর্থনীতির অন্য খাতগুলো দিয়ে সেই বেসামাল অবস্থা সামাল দেয়া অসম্ভব বিষয় বটে।
তাই আমরা সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এবছর সরকারিভাবে যে ৬ হাজার মে.টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে তা অবিলম্বে সংশোধন করে উৎপাদনের সাথে সংগতি রেখে লক্ষ্যমাত্রা পুনঃ নির্ধারণের জন্য অনুরোধ জানাই।



আরো খবর