সরকারি অফিসের ব্রডব্যান্ড সংযোগ সচল করা হোক

মাঠ পর্যায়ে সরকারি দপ্তরের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদান কার্যক্রম সচল রাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠানকে তাদের যাচ্ছেতাই রকমের দায়িত্ব পালনের ফলে এখন অধিকাংশ সরকারি অফিসের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের আওতায় এসব সংযোগ দেয়া হয়েছিল। এ কাজে সরকারের বহু টাকা খরচ হয়। কিন্তু সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারের ডিজিটালবান্ধব এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করা যাচ্ছে না। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বলাবাহুল্য যে, সংবাদে প্রকাশিত তথ্য বাস্তবতার কিঞ্চিৎ প্রতিফলন মাত্র। মাঠ পর্যায়ে এই সেবার হাল অনেক বেশি খারাপ। জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি অফিসই শুধু এই সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারে অক্ষম নয়, প্রতিটি উপজেলার অধিকাংশ সরকারি দপ্তরই এই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে না। সরকারি অফিসগুলো বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রোভাইডারের মডেম ব্যবহার করে নিজ নিজ দপ্তরের ইন্টারনেট ব্যবস্থা সচল রেখেছেন। এজন্য প্রতিটি দপ্তর বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করছে। অথচ কথা ছিল সরকারি ব্রডব্যান্ড সংযোগের মাধ্যমেই দপ্তরগুলো নিজেদের ডিজিটাল কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বিকশিত করবে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারি প্রোগ্রামার জানালেন, জেলার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত সামিট গ্রুপের উপর তাদের তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা ঠিকভাবে কথা শুনে না। রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের মনিটরিং করতে পারেন না তারা। তাঁর কথা থেকে বুঝা যায়, অনিয়ন্ত্রিতভাবেই সামিট গ্রুপ এই জেলায় দায়িত্ব পালনের নামে সরকার থেকে প্রদত্ত রক্ষণাবেক্ষণের টাকা হজম করছে। এই অবস্থা কোনো কার্যকর ব্যবস্থাপনার লক্ষণ নয়। সামিট গ্রুপের পক্ষে সিলেট বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিলনেট বিল্ডার্সের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সার্ভিস ব্যবহারকারীদের ভালো জানাশোনার অভাবে নাকি বিভিন্ন অফিসের সংযোগ অকার্যকর হয়ে আছে। তাদের এই বক্তব্য নিজেদের দায় এড়ানোর একটি অজুহাত মাত্র। ব্রডব্যান্ডের প্রযুক্তি এত জটিল কিছু নয় যে, সরকারি অফিসের শিক্ষিত লোকজন এটি ব্যবহার করতে পারবেন না।
সরকার সিলেট বিভাগকে ২০২১ সনের মধ্যে ডিজিটাল বিভাগ ঘোষণা করার কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন। এজন্য প্রতিটি সরকারি দপ্তরের সেবা ও নথি কার্যক্রম ডিজিটাল ফরম্যাটে বাস্তবায়নের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচী প্রণীত হয়েছে। সরকার প্রতিটি দপ্তরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত ই-নথি কার্যক্রম শুরু করার তাগিদ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে অনেকগুলো অফিস ই-নথি কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু সরকারি দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে ব্রডব্যান্ড সংযোগের অকার্যকারিতা ও প্রচলিত সব ধরনের ইন্টারনেটের ধীর গতিকে এই কাজের প্রধান অন্তরায় রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইন্টারনেট সেবার এই বেহাল অবস্থাকে দ্রুত কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
বর্তমান বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। দিনে দিনে এই নির্ভরশীলতা আরও বাড়বে। তথ্য প্রযুক্তির প্রধান জ্বালানি হলো ইন্টারনেট সেবা। দেশে ৪জি/৫জি ইত্যাদি দ্রুত গতির ইন্টারনেট চালুর গালভরা বুলি প্রতিনিয়ত শোনা যায়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এসবই ফাঁপা বুলি হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি প্রোভাইডাররা বাণিজ্য-চাতুরতায় ধীর গতির ইন্টারনেট বেশি মূল্যে কিনতে বাধ্য করছে সকলকে। এই জায়গায় কর্পোরেট ইন্টারনেট সেবাদানকারীদের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো একটি অপরিহার্য জাতীয় কর্তব্য। আমরা আশা করব, সিলেটকে ডিজিটাল বিভাগে রূপান্তরের জন্য দ্রুত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সবগুলো সরকারি অফিসের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগগুলোকে দ্রুত সচল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে আমাদের আকাক্সক্ষা হলো, ইন্টারনেট সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা হোক।