সরকারি কলেজের অভিভাবক সমাবেশ একটি ভাল উদ্যোগ

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ বুধবার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। শিক্ষার মানোন্নয়ন তথা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি অধিকতর মনোযোগী করার উদ্দেশ্যেই এই মতবিনিময়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের এ ধরনের আয়োজন নিঃসন্দেহে কলেজের পড়াশোনার মানোন্নয়নে তাঁদের আন্তরিকতা প্রমাণ করে। এজন্য আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানাই।
শিক্ষাদান ও গ্রহণ কোন এক পাক্ষিক বিষয় নয়। এর রয়েছে বহুমুখী পক্ষ। যিনি শিক্ষা গ্রহণ করবেন তার যেমন আগ্রহ থাকার প্রয়োজন রয়েছে তেমনি যিনি পাঠদান করছেন তাঁরও সমান আগ্রহ ও আন্তরিকতা থাকা দরকার। এর বাইরে আরও বহুকিছু রয়েছে যা এই দুই পক্ষকে সুসমন্বিত করে থাকে। ধরা যাক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েরই আগ্রহ রয়েছে কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নেই বসার জায়গা, তাহলে এই আগ্রহের মধ্য দিয়ে কোন ফল লাভ করা সম্ভব নয়। সুতরাং একই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাদানের সক্ষমতা তৈরি করার জায়গাটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এক জন শিক্ষার্থীর ভালভাবে পাঠ অনুশীলনে তার পরিবারের ভূমিকা সর্বাধিক। আমাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি এমন আধুনিক হয়ে যায়নি যেখানে বাসায় পড়া-শোনার প্রয়োজন পড়ে না। অভিভাবকদের এই জায়গায় সন্তানদের ব্যাপারে মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে পাঠক্রম, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে এত বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয় যেটি শিক্ষা দান ও গ্রহণের জন্য আরেকটি বড় অন্তরায় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করে থাকেন। অভিভাবক সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য এইসব পক্ষসমূহের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক তৈরি করা এবং এক ধরনের বোঝাপড়ার মধ্যে আসা। একটি মতবিনিময় সভার মাধ্যমে এই উদ্দেশ্য কতটুকু অর্জিত হবে সেটি অনিশ্চিত হলেও এই শুরু করার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ।
একটি অভিযোগ আছে, শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা হয় না। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে ভীষণ রকমের অনীহ, আমাদের অনেকের এরকমই ধারণা। শ্রেণিকক্ষের বাইরে প্রাইভেট টিউশনে শিক্ষকদের আগ্রহ বেশি থাকার কথাও বহুল শ্রুত। অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ আনা হয় তাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখন কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা নাকি শ্রেণিকক্ষবিমুখ হয়ে পড়েছে। এইসব পরষ্পরবিরোধী অভিযোগ সমূহকে বিবেচনায় নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো একদিনে সমাধান হয়ে যাবে না। কেউ একজন দীর্ঘদিনের কোন পরম্পরা পরিবর্তন করে ফেলতে পারবেন সেটি ভাবাও অনুচিত। তবে কাজ শুরু করতে হবে। প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নতি সাধন করতে হবে। এই শুভসূচনা ঘটলে একটা সময়ে অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ জেলার একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের মেধাবীদের লালন ও বিকাশে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রয়েছে বিরাট দায়িত্ব পালনের জায়গা। আমরা সকলে তাই জেলার এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কাজকর্মের দিকে তাকিয়ে থাকি। অতীতে বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম কিছুটা ক্ষুণœ হয়েছিল। বর্তমান অধ্যক্ষ এই জায়গা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলতে চান বলে আমরা একান্তভাবে বিশ্বাস করি। ওই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই আমরা কামনা করি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মানোন্নয়নের। অভিভাবকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে এখন বিপথগামী হওয়ার উপকরণের কোন অভাব নেই। ওইসব মন্দ উপসর্গ থেকে সন্তানদের রক্ষা করে তাদের লেখাপড়ায় মনোযোগী করে তুলুন।