সরকারি কলেজে ছাত্রাবাস না থাকার লজ্জা থেকে মুক্তি দিন

শহরের হাছননগরে শহীদ তালেব ছাত্রাবাস নামে সরকারি কলেজের একটি ছাত্রাবাস ছিল। এখন সেখানে পাঁচতলা ভবনের শিক্ষার্থী আবাস হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত: সেটি আর ছাত্রাবাস নেই। আমলাতান্ত্রিক কারণে এখনও এটি ছাত্রী নিবাস। যে প্রকল্পের আওতায় পাঁচ তলা ভবন নির্মিত হয়েছিল সেই প্রকল্প ছিল ছাত্রী নিবাস তৈরির জন্য। সুতরাং এখানে ছাত্রী নিবাস না করলে ওই প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের সুযোগ হাতছাড়া হত। কলেজ কর্তৃপক্ষ বুদ্ধিমান। তাই তাঁরা প্রকল্প বরাদ্দ বেহাত হতে দেননি। ছাত্রদের আবাসিক ব্যবস্থাকে ছাত্রীদের আবাসন হিসাবে গড়ে তুললেন। শহীদ তালেব ছাত্রাবাস থেকে ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা তিরোহিত হওয়ার পর এই কলেজের এখন আর কোন ছাত্রাবাস নেই। শহরের উকিলপাড়ায় কৃষ্ণচন্দ্র স্মৃতি ছাত্রাবাস নামে যে হিন্দু হোস্টেলটি রয়েছে সেটি নিতান্তই বসবাসের অনুপযোগী। কলেজ কর্তৃপক্ষ বেশ আগেই ওটিকে বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করেছেন। শহরের একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রদের থাকার জন্য কোন আবাসিক ব্যবস্থা নেই অথচ ছাত্রীদের দুই দুইটি আবাসিক হোস্টেল রয়েছে। এতে করে ছাত্ররা নিজেদের বঞ্চিত মনে করতে পারেই। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিত।
শহীদ তালেব ছাত্রাবাস নামক যে মুসলিম হোস্টেলটি ভেঙে এখন পাঁচতলা ছাত্রীবাস নির্মাণ করা হয়েছে তার একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিদ্যমান। এই জেলার রাজনীতিতে হোস্টেলটির অবদান অপরিসীম। স্বাধীনতা পূর্ব কাল থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে এই হোস্টেলের ছাত্রদের রয়েছে গৌরবজনক ভূমিকা। বহু রােজনৈতিক সিদ্ধান্তই এই হোস্টেলে বসে গ্রহণ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের জন্য এই মুসলিম হোস্টেলটি ছিল অনেকটা ঐতিহাসিক স্থাপনার মত। আমরা জানি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুরুত্বের সাথে সংরক্ষণ করা হয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার পরও সেখানে আগের আকৃতিতে নতুন ছাত্রাবাস নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সেই জায়গায় আমাদের সরকারি কলেজ কী করল? ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ দূরে থাক, ছাত্রদের আবাসিক ব্যবস্থাই বন্ধ করে দিল। ছাত্রদের এইভাবে আবাসিক সুবিধা বঞ্চিত করা কখনও কলেজটির শিক্ষা-পরিবেশকে উন্নত করবে না। বরং জেলা শহরের বাইরে থেকে চোখে স্বপ্ন নিয়ে সরকারি কলেজে পড়তে আসা তরুণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধার জন্য যে অবর্ণনীয় কষ্ট করতে হবে তাতে করে কলেজের শিক্ষার মানের অবনতি ঘটবে বলেই আমরা মনে করি।
উকিলপাড়ার কৃষ্ণচন্দ্র ছাত্রাবাস নামের হিন্দু হোস্টেলটি সংস্কারেও কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই। হিন্দু হোস্টেলটি সংস্কার করা কঠিন কোন কাজ নয়। একটু আন্তরিকতা আর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সমন্বয় থাকলে এ কাজটি অনায়াসেই করা যায়। মুসলিম হোস্টেলের জন্য নতুন জায়গা খোঁজার কথা বলেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই কাজটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করা উচিত। একটি অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের আবাসিক সুবিধা থাকবে না এটি চিন্তার অকল্পনীয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের অনুরোধ বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে অচিরেই আপনারা সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করুন। জেলার উন্নয়নের ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। আপনারা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে তাঁর কাছে যান। দেখবেন, তিনি একটি ব্যবস্থা করে দিবেন। এ নিয়ে সময় ক্ষেপণের কোন অবকাশ নেই। সরকারি কলেজে ছাত্রাবাস নেই, এমন লজ্জা থেকে আমরা দ্রুত মুক্তি পেতে চাই।