সরকারি খাল দখলমুক্ত করার দাবিতে স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরে দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জেলা শাখার পক্ষ থেকে সোমবার দুুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হারুন অর রশিদের কাছে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মাঝ দিয়ে এক সময় নৌকা চলত। এটি ছিল কামারখাল। সুরমা নদী থেকে শুরু হয়ে এটি শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দেখার হাওরে গিয়ে মিশেছে। এখন দখলে-দূষণে এই খালের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। কোনো কোনো স্থানে পৌরসভা এটিকে ড্রেনে রূপান্তির করেছে। কিন্তু দখল থেমে নেই। এ ছাড়া শহরের আরও চারটি খাল একইভাবে দখল হয়ে গেছে। খাল দখল করে বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এতে শহরের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গত ২৮ জুন শুক্রবার প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও পাড়া মহল্লা প্লাবিত হয়ে যায়। অনেক ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। এতে মানুষজন সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো শহরের পানি প্রবাহের প্রধান পাঁচটি খাল উদ্ধার করা। এ গুলো হলো ধোপাখালী খাল, বলাইখালী খাল, কামার খাল, তেঘরিয়া খাল ও বড়পাড়া খাল।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময় এসব খাল উদ্ধারে অভিযান হলেও কিছুদিন পর আবার সেগুলো দখল হয়ে যায়। পরে আর এই খাল নিয়ে কেউ ভাবে না। শহরের এসব খাল উদ্ধার করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহের ব্যবস্থা না করলে জলাবদ্ধতার কবল থেকে মানুষ মুক্তি পাবে না।
স্মারকলিপি প্রদানকালে সংগঠনের উপদেষ্টা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মফচ্ছির মিয়া, সংগঠনের সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য ফৌজি আরা বেগম শাম্মী, সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল আহমদ, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সদস্য নুরুল হাসান, জনি রায়, নজির আহমদ, গোলাম রব্বানী, হাফিজ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।