সরকারি টাকা নিয়ে দিরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নাইটগার্ড উধাও

দিরাই প্রতিনিধি
দিরাই উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের নাইটগার্ড কাম পরিচ্ছন্ন কর্মী মনি সরকার ১০দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তার নিখোঁজ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা সন্দেহ। অভিযোগ উঠেছে জমি রেজিষ্ট্রির ফি সহ বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে সে। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা সদরসহ অফিস পাড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তবে সাব-রেজিষ্টার আবদুল বাতেন বলছেন এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। নাইটগার্ড মনি সরকার ১০ জুন থেকে উপস্থিত নেই। এ ব্যাপারে দিরাই থানায় জি ডি করা হয়েছে।
জেলা রেজিষ্ট্রার সাইফুল ইসলাম দিরাই উপজেলা রেজিষ্ট্রি অফিস পরিদর্শন এবং অফিস সহকারী ইলিয়াছ মিয়া ও আভা পুরকায়স্থকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।
ছাতক উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রার আব্দুল করিমকে প্রধান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রার মোহাম্মদ জাফর আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রার শওকত হোসেন অপিকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৩ সদস্যের এ প্রতিনিধি দল দিরাই সাবরেজিষ্ট্রার অফিসে এসে তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।
অফিস ও সোনালী ব্যাংক দিরাই সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে রেজিষ্ট্রিকৃত দলিলের পে-অর্ডারগুলো অধিকাংশ সময় নাইটগার্ড কাম পরিচ্ছন্নকর্মী মনি সরকার ব্যাংকে জমা করতো। ২৮শে মে ৪ লাখ ২২ হাজার টাকার ৪টি পে-অর্ডার ব্যাংকে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা জমা না দিয়ে ৩০ মে ২ টি ও ৩ জুন আরও ২টি পে অর্ডার মাহতাবপুরের সন্ধীপের নামে করা হয়। ১০জুন নাইট গার্ড মনি সরকার পে-অর্ডারের চালান জমা দিতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে চালানে গড়মিল ধরা পড়ে। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রার আব্দুল বাতেনকে অবহিত করেন। এর পর থেকেই আর মনি সরকার অফিসে আসেনি। ১৬ জুন দিরাই থানায় মনি সরকারের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ ডায়রী করেন সাবরেজিষ্ট্রার আব্দুল বাতেন। মনি সরকারের নিখোঁজের খবরে উপজেলা সদরসহ অফিস পাড়ায় শুরু হয় নানা গুঞ্জন। লোক মুখে শুনা যায় সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে নাইটগার্ড মনি সরকার। ১৮ জুন সরেজমিন সাবরেজিষ্ট্রি অফিস ও সোনালী ব্যাংক দিরাই শাখা পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহ করতে আসেন জেলা সাবরেজিষ্ট্রার সাইফুল ইসলাম।
এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের সাবরেজিষ্ট্রার আব্দুল বাতেন বলেন, ব্যাংকে অফিস সহকারীর টাকা জমা করার কথা, মনি কিভাবে ব্যাংকে টাকা জমা দেয় তা আমি বুঝতে পারছি না। ব্যাংক থেকে আমাকে জানানোর পর অফিসের স্টাফদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাই। এর পর থেকে মনি সরকারকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখনই কিছু বলা যাবে না, ব্যাংক স্ট্যাটমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। অফিসের লেজারের সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে গড়মিল আছে কি না।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম নজরুল জানান, ১০ জুন থেকে নাইট গার্ড মনি সরকার কর্মস্থলে আসছে না এবং তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে নিখোঁজের ব্যাপারে সাধারণ ডায়রী করেন সাব-রেজিষ্ট্রার আবদুল বাতেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই রূপক কর্মকারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।