সরকারি দালান দ্রুত ভাঙে কেন?

১৯৯৯-২০০০ সনে নির্মাণ করা হয় ভেরাডহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন। প্রত্যন্ত শাল্লা উপজেলায় এই বিদ্যালয়টি অবস্থিত। এলজিইডি ছিল নির্মাণকারী প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান। সময়ের হিসাবে ভবন নির্মাণের পর ইতোমধ্যে ১৮ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। একটি পাকা দালানের জন্য ১৮ বছর নিতান্তই কম সময়। এমন সময়ের মধ্যে কোন পাকা দালান নষ্ট হতে পারে না, যদি না সেখানে নির্মাণ কাজে বড় ধরনের ত্রুটি থাকে। অথচ ১৮ বছর নয়, এখন থেকে আরও ৪/৫ বছর আগেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ছাদের পলেস্তারা স্থানে স্থানে খসে পড়ছে বিপজ্জনকভাবে। গত বৃহস্পতিবার এই ভবনের ছাদ ভেঙে আহত হয়েছেন বিদ্যালয়ের দপ্তরি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এই ভবনে তারা খুব আতংকের মধ্যে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করাচ্ছেন। যেকোন সময় ছাদ ধসে গিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন তারা। সবচাইতে বড় যে অভিযোগটি এসেছে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সেটি হলো, এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অভিভাবকরা এমন একটি বিপজ্জনক ভবনে বাচ্চাদের পাঠাতে চাচ্ছেন না। উপরে বর্ণিত বিদ্যালয়ের দুর্ভোগের চিত্র নিয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
কোন ভবন সময়ের ব্যবধানে বিনষ্ট হবে, সেটি সংস্কার হবে, প্রয়োজনে ভেঙে নতুৃন ভবন হবে, এগুলো স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু অস্বাভাবিক হলো, নির্মাণের দুই দশক পেরোনোর আগেই কোন ভবনের ছাদ ধসে পড়া। অবশ্য উদ্বোধনের আগেই সেতু ভেঙে পড়া অথবা নির্মাণের বছর পেরোনোর আগেই ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যাওয়ার ঘটনা আমাদের দেশে আখছারই শোনা যায়। সেখানে ১৮ বছর তো অনেক দিন। বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান যদি বলেই বসে, ভেরাডহর স্কুলের এই দালানটি তো উদ্বোধনের আগে ভেঙে পড়েনি, ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে, এই কি ঢের নয়, তখন তো উল্টো আমাদেরই লজ্জা পেতে হয়। আসলেই আমাদের লজ্জা পাওয়ার উপলক্ষ পদে পদে। আপনি নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে যে বাড়ি বানান, সেটি ৫০ বছর পরেও কিছু হয় না। কিন্তু যখন আপনি ঠিকাদার সেজে নিজের বাড়ির চাইতে দ্বিগুণ অথবা তিন গুণ বেশি টাকা খরচ করে সরকারি কোন স্থাপনা নির্মাণ করবেন তখন সেটি কয়েক বছর পরেই ভেঙে যায়। নিজের কাজ ও সরকারি কাজ দুইটির মধ্যে এই যে ব্যবধান সেটিই আজ বাংলাদেশের মূল সমস্যাগুলোর অন্যতম। এই ব্যবধান আদৌ ঘুচবে কিনা সেটি ভিন্ন প্রশ্ন। তবে এই ব্যবধানের কারণেই বাংলাদেশের যাবতীয় সম্ভাবনা থাকা সত্বেও কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জন করা যাচ্ছে না।
যাহোক ভেরাডহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে ১৬০ জন কঁচি শিশু পড়াশোনা করছে। এই শিশুদের জীবনকে কখনও বিপন্ন করা যাবে না। একজন দপ্তরি যেখানে আহত হয়েছেন সেখানে ভবিষ্যতে আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আমরা শিক্ষা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আপনারা দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ করুন। ভবন সংস্কার করার দ্রুত উদ্যোগ নিন। আপনাদের সময়োচিত পদক্ষেপের অভাবে যদি কোন অনাহুত দুর্ঘটনা ঘটে যায় এই বিদ্যালয়ে, তাহলে দায় এড়ানোর কোন সুযোগ থাকবে না।