সরকারি ধান ক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর দাবিতে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার
সুনাগঞ্জের হাওরের কৃষকদের কাছ থেকে হয়রানিমুুক্ত ও সি-িকেট-ফড়িয়ামুক্ত পরিবেশে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ এবং ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধির দাবিতে ‘কৃষক সংহতি’র ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের আলফাত স্কয়ারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র নেতৃবৃন্দ, সংস্কৃতিকর্মী, কৃষক নেতৃবৃন্দসহ সুধীজন অংশ নেন। তারা অবিলম্বে উৎপাদন অনুপাতে ধানের ক্রয় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘সুনামগঞ্জের হাওরে এ বছর ১৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ মে.টন ধান উৎপাদন হয়েছে। অথচ সরকার ধান কিনবে এবার এ জেলা থেকে মাত্র ৬ হাজার
৫০৮ মে.টন । যা একেবারেই হাস্যকর। কৃষক পরিবার প্রতি মাত্র সাড়ে ১৮ কেজি ধান, যার আর্থিক মূল্য মাত্র ৪৮৩ টাকা। এটা কৃষকদের প্রতি প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।’ বক্তারা জানান, সরকার ধান না কেনায় হাওরাঞ্চলে প্রতিমণ ধানে ২০০ টাকা’র বেশি লোকসান হচ্ছে। ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণের বেশি কোন ফড়িয়া ধান কিনছে না।
বক্তারা অবিলম্বে কৃষকদের কাছ থেকে সংগৃহিত ধানের পরিমাণ বাড়িয়ে হয়রানিমুক্ত ও সি-িকেটমুক্ত পরিবেশে ধান সংগ্রহের দাবি জানান।
সাংবাদিক শামস শামীমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিনিয়র আইনজীবী লেখক হোসেন তওফিক চৌধুরী, লেখক সুখেন্দু সেন, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর, এডভোকেট রুহুল তুহিন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমেদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন, অ্যাডভোকেট কল্লোল তালুকদার চপল, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা কৃষক লীগের সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার, ওবায়দুর রহমান কুবাদ, আশরাফ হোসেন লিটন, সত্যজিৎ আচার্য্য চন্দন, ছাত্র নেতা আসাদ মনি প্রমুখ।
প্রসঙ্গত. সুনামগঞ্জে এবার বোরো ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ১৭ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে, আবাদ হয়েছে দুই লাখ ২৪ হাজার ৪০ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ মে.টন ধান।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া মোস্তফা জানান, সারাদেশের বিভিন্ন ক্রয় কেন্দ্র থেকে এবার দেড় লাখ মে.টন ধান কিনবে সরকার। প্রতি কেজি ধান কেনা হবে ২৬ টাকা অর্থাৎ প্রতি মণ ধান ১০৪০ টাকা কেনা হবে। চাল আতব ৩৫ টাকা এবং সিদ্ধ কেনা হবে ৩৬ টাকা কেজিতে। সুনামগঞ্জ জেলায় ধান কেনা হবে ৬৫০৮ মে.টন এবং চাল আতব কেনা হবে ১৭ হাজার ৭৯৮ মে.টন এবং সিদ্ধ কেনা হবে ১৪ হাজার ১৭৯ মে.টন।