সরকারি মহিলা কলেজের হোস্টেলে অনিয়ম-দুর্নীতি

স্টাফ রিপোর্টার
জেলার নারী শিক্ষার উচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ’এর হোস্টেল (ছাত্রী নিবাসে) পরিচালনায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রী ও অভিভাবকরা হোস্টেলের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করে দেখার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
সরকারি মহিলা কলেজের হোস্টেলের দুর্নীতি প্রতিরোধে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ছাত্রীরা। আবেদনের কপি দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে পাঠিয়েছেন তারা।
দুর্নীতি প্রতিরোধের আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক নারী সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কাছে করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের হোস্টেলে ১৩০ জন ছাত্রী থাকেন। হোস্টেলে থাকা ছাত্রীদের উপর নানা অন্যায় ও অত্যাচার চলে নিয়মিত। হোস্টেলে থাকার জন্য ছাত্রীদের খাওয়ার বিল ছাড়াই বছরে ৮ হাজার করে টাকা দিতে হয়। কেন ছাত্রীদেরকে এত টাকা দিতে হয় সেটি তারা জানেন না।
আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, তারা শুনেছেন কলেজের হোস্টেল সুপার প্রভাষক শামীমুল হাসান ও রামানুজ আচার্য মাসে ৮/৯ হাজার টাকা করে নেন। বছরে তাঁরা একলক্ষ টাকা করে নেন। যা গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ছাত্রীদের পরিশোধ করতে হয়। দেশের আর কোন কলেজে ছাত্রীদের কাছ থেকে এরকম টাকা আদায় করা না হলেও সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে এটি অব্যাহত রয়েছে।
মহিলা কলেজের হোস্টেলে থাকার জন্য এক পৃষ্ঠার একটি ফরমের দাম ১৩০ টাকা করে রাখা হয়। নানাভাবে ছাত্রীদের শাসানো হয়, সত্য কথা প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়।
ছাত্রী নিবাসের খাবারের মান খুব খারাপ। তাই সব ছাত্রী নিজেরা রান্না করে খেতে বাধ্য হয়। নিবাসের বাথরুমের অবস্থা খুবই নোংরা ও অপরিছন্ন থাকে। ১০-১২ টা বাথরুম পরিস্কার করার জন্য দুই মাসে একটা হারপিক দেয়া হয়।
প্রভাষক রামানুজ আচার্যের আচরণ ভাল হলেও প্রভাষক শামীমুল হাসানের কথাবার্তা অশালীন। তিনি ছাত্রীদের গালিগালাজ করেন। যার কারণে ছাত্রীরা ভয়ে ও লজ্জায় চুপ করে থাকেন। ছাত্রীরা একজন নারী হোস্টেল সুপার দেয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের হোস্টেল সুপার প্রভাষক শামীমুল হাসানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সহকারি হোস্টেল সুপার প্রভাষক রামানুজ আচার্য দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। বেনামে দায়ের করা অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছাত্রীদের টাকা ছাত্রীরা তোলে, ছাত্রীরাই খরচ করে। এই অভিযোগ করার সাথে কলেজের দু’একজন শিক্ষক জড়িত আছেন।’
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাজালা পারভীন রুহি বলেন,‘সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের হোস্টেলের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখার জন্য ডিসি স্যার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হবে। ’
সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পরাগ কান্তি দেব বলেন,‘ হোস্টেলের কোন অনিয়ম-অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রীরা আমাকে কোনদিন জানায় নি। তারা অভিযোগের বিষয়গুলো প্রথমে হোস্টেল সুপারকে অবগত করতো। হোস্টেল সুপার সমাধান না করতে পারলে আমাকে জানালে আমি খোঁজ নিয়ে দেখতাম। ছাত্রীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে আমার কোন কিছুই জানা নেই। ’