সরকারি সাহায্য বঞ্চিত জনতার হাতে লাঞ্ছিত চেয়ারম্যান

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজারে করোনাকালীণ সরকারি বিভিন্ন সাহায্য বঞ্চিত জনতার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ। মঙ্গলবার (২০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত দুইবছর ধরে মহামারি করোনায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সাহায্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু পান্ডারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ৬টি গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষ এসব সাহায্য থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মানুষ চেয়ারম্যানের কাছে সরকারি এসব সাহায্যের জন্য গেলে তিনি আওয়ামী লীগ, প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য এবং কটাক্ষ করেন। এমনকি ৬নং ওয়ার্ড সদস্য হাবীবুর রহমানকে সাহায্য তৎপরতায় সম্পৃক্ত না করে চেয়ারম্যান তার ইচ্ছেমতো পছন্দের কিছু মানুষকে দিয়ে সবই তিনি লুটপাট করেন। এতে বঞ্চিত ওয়ার্ডের প্রকৃত উপকারভোগী মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে ফেরার পথে ওই এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁর উপর চড়াও হন এবং তাঁর পথ গতিরোধ করে সরকারি সাহায্য না দেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য এগিয়ে আসলে ইউপি সদস্যের সাথে চেয়ারম্যানের কথা কাটাকাটির জেরে ঘটনাস্থলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ।
ইউপি সদস্য হাবীবুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান গত দুইবছর ধরে পরিষদে কোন মিটিং না করে নিজের খেয়াল খুশিমতো কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। আমার ওয়ার্ডের প্রকৃত উপকারভোগী অসহায় দরিদ্র মানুষদের সরকারি সহায়তা না দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে নামকাওয়াস্তে কয়েক পরিবারকে সরকারি সহায়তা দিয়ে আসছেন। গত বছর ছয়দফা প্রণোদনাসহ, প্রধানমন্ত্রীর উপহার, সরকারি ত্রাণ এবং এ বছরে করোনা প্রণোদনাসহ ঈদ সহায়তার কিছুই পায়নি আমার ওয়ার্ডের জনগণ।
মঙ্গলবার দুপুরে বঞ্চিত জনগণ তাকে ঘেরাও করে রাখে এবং তিনি জনতার হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। জানতে চাইলে পান্ডারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমদের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি।
এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার ওসি দেবদুলাল ধর বলেন, এমন ঘটনার খবর পেয়েছি, খবর পাওয়ার পর কয়েকবার ফোন দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। তবে এ নিয়ে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।