সরকারি সেবাগুলোকে দ্রুত ডিজিটাল করতে হবে

ই-নথি কার্যক্রমে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অবস্থান সারা দেশে চতুর্থ, ডিজিটাল অগ্রগতিতে এই সফলতা নিঃসন্দেহে প্রশংসাজনক। সরকার সিলেট বিভাগকে ইতোমধ্যে ডিজিটাল বিভাগ ঘোষণা করে ২০২১ সনের মধ্যে সরকারি সকল সেবা কার্যক্রমকে ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারি কাজগুলো যত বেশি ডিজিটালাইজড হবে তত দুর্নীতির গতি কমতে থাকবে। এছাড়া এই পদ্ধতিতে কাজের গতি ও মান বাড়বে। সহজে জনসাধারণ কাক্সিক্ষত সেবা পেতে পারবেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের দিকে যে আমরা ক্রমশ এগিয়ে চলেছি ই-নথি কার্যক্রমে জেলার সফলতা তার প্রমাণ। আমরা এজন্য সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও তাঁর সহকর্মীদের অভিনন্দন জানাই।
ই-নথিতে সারা দেশে জেলার অবস্থান চতুর্থ হলেও মূলত সরকারি সেবা কার্যক্রমগুলোকে এখনও তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। ডিজিটাল বাংলাদেশের আসল উদ্দেশ্য আসলে সেটিই। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ভূমি নিবন্ধন, ভূমি অফিসের নামজারি-নামখারিজ ইত্যাদি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সুবিধাভোগীদের ভাতা বিতরণ, আয়কর ও ভ্যাট বিভাগের কাজ, পুলিশ প্রশাসনের সেবাসমূহসহ সরকারি সেবার অধিকাংশই এখনও সাবেকি পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি এখন এমন এক উচ্চতর অবস্থানে পৌঁছে গেছে যেখানে ব্যক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় সকল চাহিদা পূরণেই ওই প্রযুক্তি সক্ষম। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের বিষয়টি জাতীয় উন্নয়নেরও নিদর্শন। আমরা ওই জায়গায় যেতে চাই। সরকারের লক্ষ্যও তাই।
সরকারি কাজে সবকিছুর গতিই হয়ে থাকে মন্থর। নতুবা বেসরকারি খাতে বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও ব্যাংকিং খাতে যে দ্রুতগতিতে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো সম্ভব হয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কেন সেই গতি অর্জন করা সম্ভব হয় না? আমাদের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাটি মূলত নতুন কোনো কিছুকে সহজে গ্রহণ করতে চায় না। তাঁরা পুরোনো ঠাটবাট বজায় রেখে চলার পক্ষে। অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে বর্তমান পদ্ধতিতে প্রচুর দুর্নীতি করা হয়ে থাকে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেনকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করে। আমলাতন্ত্রকে এই সনাতনী ধ্যান-ধারণা ভেঙে জনবান্ধব ও গতিশীল জায়গায় আনতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কিছু কাজ হয়েছে বটে কিন্তু তার গতিও কম। একটি সহজ উদাহরণ হলো, এটুআই প্রজেক্টের আওতায় সরকারি সব অফিসে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেয়া হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। কিন্তু এখন খোঁজ নিলে দেখা যাবে ওইসব ব্রডব্যান্ড সংযোগের অধিকাংশই অকার্যকর। অথচ বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলোর সেবা এক মিনিটের জন্য বন্ধ থাকার কোনো উদাহরণ পাওয়া যাবে না। বিটিসিএল নামক সরকারি প্রতিষ্ঠানটি সব ধরনের সক্ষমতা থাকা সত্বেও মুখ থুবড়ে পড়েছে। কেন? এই কেনগুলোর উত্তর না মিলালে ঘোষণা নির্ভর কোনো কর্মসূচীই শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারে না।
বৈশ্বিক যে সময়ে আমাদের বসবাস সেখানে প্রাযুক্তিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলে জাতীয়ভাবেই আমরা পঙ্গু হয়ে যাব। অন্যান্য দেশ যখন ক্রমাগত উপরের দিকে উঠে যাবে তখন আমরা মাথা উঁচু করে কেবল ওই দৃশ্য দেখবই, নিজেরা দৌঁড়াতে পারব না। এই অনাকাক্সিক্ষত অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন। স্বপ্ন বাস্তবায়নে দরকার অন্তর্গত বিশ্বাস ও ওই ধারায় নিজেদের আত্মস্থ করে ফেলা। উপরে বন্ধু আর ভিতরে প্রভু, এই মানসিকতাকে ধরে রেখে কখনও উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে প্রাযুক্তিক এই উৎকর্ষতার যুগে। আমরা বিশ্বাস করি ই-নথি কার্যক্রমে আমাদের প্রিয় জেলা যেভাবে সফলতা দেখিয়েছে সেইভাবেই সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সেবাগুলোকেও দ্রুত ওই ফরম্যাটে নিয়ে আসতে সক্ষম হবে। আমরা সংশ্লিষ্টদের সফলতা কামনা করি।