সরকারের শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগগুলোকে যত্ন সহকারে বাস্তবায়ন করতে হবে

বিদ্যালয়গুলোতে মিড-ডে মিল চালু ও আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন বইয়ের সাথে নতুন পোশাক কেনার জন্য জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে দেয়ার সরকারি ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে যকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার সাথে আর কোনো সরকারের উদ্যোগ তুলনীয় হবে না। শিক্ষার প্রসার, মানোন্নয়নে সরকার যে কতটা আন্তরিক এইসব উদ্যোগ তার প্রমাণ। উন্নত দেশসমূহে নাগরিকদের সাবালকত্ব কাল পর্যন্ত শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করে। ্ওইসব দেশে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার সম্পূর্ণ খরচ সরকার জুগিয়ে থাকে। উন্নত রাষ্ট্রে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ শিক্ষাবান্ধব। শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে বসেই তার পাঠ আত্মস্থ করে নিতে পারে। সেজন্য তার বাসায় বাড়তি পড়াশোনা কিংবা প্রাইভেট টিউটর ও কোচিং সেন্টারে দৌঁড়াতে হয় না। শিক্ষার্থীদের বয়স বিবেচনায় ক্যালোরির হিসাব করে পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশ এখনও উন্নত দেশের সেই সুযোগ-সুবিধা দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু লক্ষ্যটা যে ওরকমই আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। দেশ আজ নিম্নমধ্যআয়ের স্তরে প্রবেশ করেছে। সামনে লক্ষ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া এরপর ২০৪১ সনে উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত হওয়া। সরকার বিশ্বাস করে উন্নয়নের ওইসব ধাপ অতিক্রমে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তিই কেবল তার স্বদেশভূমিকে ক্রমাগত উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সরকারের শিক্ষাবান্ধব এসব কর্মসূচী আমাদের মতো রাষ্ট্রগুলোর কাছে নিশ্চয়ই অনুপ্রেরণা জুগাবে এবং এতে করে আমাদের সন্তানরা আরও মানসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী হয়ে দেশোন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।
মিড-ডে মিল ও নতুন পোশাক কেনার জন্য ২ হাজার করে টাকা দিতে সরকারের বিশাল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন পড়বে। অর্থের সংস্থান রয়েছে বলেই সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই অর্থ খরচের সাথে ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ সংশ্রব রয়েছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছাড়া এতো বড় মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। এছাড়া আমাদের ভিতরে একটি সুপ্ত দুর্নীতিগ্রস্ত মানসিকতা বাস করে। যদি শিক্ষাবান্ধব ওইসব কর্মসূচীতে দুর্নীতি ঢুকে পড়ে তাহলে মহাসর্বনাশ। তাই দুর্নীতিমুক্তভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপন্য়া এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের বিষয়টি খুবই জরুরি। আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র অনুপাতে শিক্ষক সংখ্যা এখনও অনেক কম। মিড-ডে মিল বাস্তবায়ন করতে যেয়ে অনেক শিক্ষকের কর্মঘণ্টা এর পিছনে ব্যয়িত হবে। এই সময়টুকু কাটা যাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম থেকে। মিড-ডে মিল চালু করতে যেয়ে যদি শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় তাহলে এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যই ভন্ডুল হবে। সরকারকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। মিড-ডে মিলের ক্ষেত্রে আরও যে জিনিসটির প্রতি নজর রাখা দরকার তা হলো খাদ্যের গুণগত ও পুষ্টিগত মান বজায় রাখা। খাদ্যে এর ব্যত্যয় ঘটলে শিশু শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়বে। এই জায়গায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিশয় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন খাবার সরবরাহ করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে কতটুকু উপযোগী হবে তা এখন দেখার বিষয়। বাছাই করা বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম সবে শুরু হয়েছে। তাই এ নিয়ে শেষ কথা বলার সময় এখনও আসেনি।
তবে এই কর্মসূচীগুলো যাতে কতিপয় ঠিকাদার বা মধ্যসত্ত্বভোগীর লুটপাটের মৃগয়াক্ষেত্র না হয়ে উঠে তাই হলো সকলের কামনা।