সরকার নয়, সংলাপ আ.লীগের সঙ্গে -কাদের

সু.খবর ডেস্ক
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ সরকারের সঙ্গে নয়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে- বিষয়টি পরিস্কার করে বুঝিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ সংলাপ সরকারের সঙ্গে নয় এ সংলাপ আওয়ামী লীগের সঙ্গে। এ সংলাপ আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে। আলোচনায় আওয়ামী লীগ সভাপতি নেতৃত্ব দেবেন। তারাও চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলাপ করতে। এটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।’ নবগঠিত ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের প্রস্তাবে সায় দেয়ার পরদিন মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন কাদের।
গত রবিবার কামাল হোসেনের সইসহ ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে চিঠি যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। পরদিন ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে চমকের ঘোষণা আসে। ‘জরুরি সংবাদসম্মেলন’ ডেকে ওবায়দুল কাদের জানান, তারা সংলাপে রাজি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টকে গণভবনে আমন্ত্রণও জানিয়ে চিঠিও দেয়া হয়েছে।
সংলাপে রাজি হওয়ার সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন নিতে চাননি। চাপাচাপিতে দুই একটি বিষয়ে কেবল কথা বলেছেন, তাও সংক্ষিপ্ত আকারে।
তবে পরদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের যত প্রশ্ন, তার জবাব দেন আওয়ামী লীগ নেতা। সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কতজন থাকবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তারা কতজন আসেন লিস্টটা দেখি। তারপর আমাদের কারা থাকবেন সেটা আমরা পরে ঠিক করব।’
‘দেখুন আমরা বা এদিকে চৌদ্দ দল, আমরা একই ভয়েসে কথা বলি। আমরা আমাদের সরকার ও দলের পলিসি যেটা ছিল সেটাই বলেছি। এখানে আমাদের পার্টি প্রধান যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই হবে।’
এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে আসা সংলাপের দাবি অগ্রাহ্য করেছে আওয়ামী লীগ। হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদলের বিষয়ে কাদের বলেন, ‘আমাদের পার্টি প্রধান বলেছেন, আমি তো কারো আন্দোলনের মুখে, বা কারো চাপের মুখে সংলাপে বসতে যাচ্ছি না। এটাতো এমন হয়নি দেশে একটি প্রতিবাদের ঝড় বা দেশে একটি আন্দোলনমুখর অবস্থা করছে যে সেই অবস্থায় সরকার নতি শিকার করে সংলাপে বসছে। বিষয়টা এমন নয়।’
‘বিষয়টা হচ্ছে ড. কামাল হোসেন সাহেব ঐকফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমাদের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন। শেখ হাসিনাও বলেছেন কেউ আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তার জন্য দরজা খোলা আছে। তাই আলোচনা হবে।’
“এ বিষয়ে গতকাল কেবিনেটের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় নেত্রী (শেখ হাসিনা) বলেছেন, ‘কেউ যদি আমার সঙ্গে দেখা করতে চান, শেখ হাসিনার দরজা তো কারো জন্য বন্ধ নয়। আমার দরজা খোলা আছে। দেখা করতে চেয়ে যেহেতু চিঠি দিয়েছেন, ফলে আমি দেখা করব’। বিষয়টি এমন। এটা আসলে কারও চাপের কাছে নয়।”
আলোচনার বিষয়ে কিছু বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উলেখ করে কাদের বলেন, ‘আমি গণফোরামের মোস্তফা মোহসীন মন্টুর সঙ্গে গতরাতে ফোনে আলাপ করেছি। কিছু পত্রিকা লিখেছে আলোচনার জন্য আমি নাকি ১০ জনের নাম প্রস্তাব করেছি, এটা সঠিক নয়। আমি এমন কিছু বলিনি, আমি মোস্তফা সাহেবকে বলেছি আপনারা আলোচনায় কতজন আসতে চান। তিনি আমাকে বলেছেন তারা ১৫ জন আসতে চান। আমি বলেছি ১৫ জন কেন, ২০-২৫ জনও আসতে পারেন।’
ঐক্যফ্রন্টের জামায়াতের কোনো নেতার উপস্থিতি থাকলে সেটাকে কোন দৃষ্টিতে দেখবেন- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন তো কিছুদিন আগে বলেছেন যে, জামায়াতের সঙ্গে আমি নেই। তিনি কী করেন দেখি। এখানে নিবন্ধনের বাইরে বোধ হয় কারো আসার সুযোগ নেই।’
ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যেরও নিবন্ধন নেই। সংলাপে তার উপস্থিতির সম্ভাবনা আছে কিনা-জানতে চাইলে জবাব আসে, ‘সেটা ড. কামাল হোসেন সাহেবের উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ জন্যই বলেছি ২০/২৫ জনও আসতে পারেন তারা।’
‘আবার কোন কোন কাগজে লিখেছে আমি নাকি খাবারের মেনু নিয়ে আলোচনা করেছি। এসব হালকা বিষয়গুলো এভয়েট করা উচিত গণমাধ্যমের। আলোচনার বিষয়টি একটি সিরিয়াস বিষয়, সেখানে এভাবে হালকা বিষয়গুলো তুলে ধরা ঠিক নয়।’
তবে সংলাপের পর ডিনারের (রাতের খাবার) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘খোলামেলা পরিবেশে আলাপ আলোচনা হবে, তা না হলে তো আমরা ডিনারের ব্যবস্থা করতাম না।’
ফ্রন্টের দাবি মেনে নেয়া হবে কি না- জানতে চাইলে জবাব আসে, ‘দাবি-দাওয়াগুলো এখন টেবিলে আসবে। সেখানেই আলোচনা হবে। চিঠির সঙ্গে তারা ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য সংযুক্ত করেছেন। কাজেই এটাকে আমার নাকচ করার সুযোগ নেই।’
ঐক্যফ্রন্ট ছাড়াও অন্য দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবেন কি না-এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘এখন সংলাপের কোনো সুযোগ নেই। কীভাবে করব বলেন? নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সিডিউল ঘোষণা করলে, কীভাবে…?’
সূত্র : ঢাকাটাইমস