সরকার রাজস্ব পাবে পাঁচ কোটি টাকা

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলার তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় যাদুকাটা নদীর বিভিন্ন স্থানে নতুন করে তিনটি বালু মহাল সৃষ্টি করেছে জেলা প্রশাসন। এক সময় প্রভাবশালীরা নানাভাবে এসব এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করত। এখন প্রশাসন এসব এলাকাকে বালু মহাল হিসেবে ঘোষণা করায় এগুলো প্রতি বছর ইজারা হবে। এতে সরকার প্রতি বছর প্রায় পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে নতুন তিনটি বালু মহাল ছাড়া আরও দুটি বালু মহাল আছে। এগুলো হলো জেলার ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদী এবং চেলা নদী-মরা চেলানদী বালু মহাল। এগুলো প্রতি বছর জেলা প্রশাসন হতে ইজারা দেওয়া হয়। এর বাইরে এবার আরও তিনটি নতুন বালু মহাল সৃজন হয়েছে বলে গত ২২ মে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে সুনামগঞ্জে পাথর মহাল রয়েছে দুটি। এগুলো হলো তাহিরপুর উপজেলার ফাজিলপুর বালি মিশ্রিত পাথর মহাল এবং সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অবস্থিত ধোপাজান বালিমিশ্রিত পাথর মহাল। এগুলো ইজারা হয় খনিজ মন্ত্রণালয় থেকে।
বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১১ এর নিদের্শনা মোতাবেক সুনামগঞ্জে নতুনভাবে ঘোষিত তিনটি বালু মহাল হলো, যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ এবং মাহারাম নদী বালু মহাল। যাদুকাটা-১ মহালটি হলো সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চালিয়ারঘাট মৌজার ১০০২ ও ১০০৩ দাগের ৮৯ দশমিক ৫৬ একর এলাকা নিয়ে। যাদুকাটা-২ বালু মহাল হলো একই উপজেলার উত্তর বদড়ল ইউনিয়নের চালিয়ারঘাট ও বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরান লাউড় এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের ইকরাটিয়া মৌজার ১৩টি দাগের প্রায় ৩৯৮ একর এলাকা নিয়ে। মাহারাম নদী বালু মহাল হলো তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রাজাই মৌজার ৬৪২ দাগের ১০৪ দশমিক ২০ একর এলাকা নিয়ে।
স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকার যাদুকাটা নদীতেই এসব বালু মহালের অবস্থান। যুগ যুগ ধরে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে তাদের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা এসব স্থান থেকে অবাধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। কখনো পাশের ফাজিলপুর বালুমিশ্রিত পাথর মহাল ইজারা নিয়ে পুরো নদীতেই নিজেদের দখলদারিত্ব বজায় রেখেছেন। স্থানীয় লোকজনও মনে করতেন এসব এলাকা ফাজিলপুর পাথর মহালের অংশ। স্থানীয় লোকদেরও বিষয়টি এভাবেই বোঝানো হতো।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার ওই এলাকা পরিদর্শন করেছে। স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর নতুন বালু মহাল সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়। নতুন তিনটি বালু মহাল থেকে সরকার বছরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বছর বছর রাজস্বের পরিমাণ বাড়বে।
সদ্য বিদায়ী সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সফিউল আলম জানান, সুনামগঞ্জে জলমহাল এবং বালু মহাল নিয়ে নানা পক্ষ সক্রিয় থাকে। কেউ কেউ এসব মহাল এক বছরের জন্য ইজারা নিয়ে পরে মামলায় জড়িত রেখে দিনের পর দিন ভোগদখল করেছে। কিন্তু এখন সেটা নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ায় এখন মামলা কমেছে। তাই জলমহাল এবং বালু মহালসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। তিনি বলেন, নতুন করে বালু মহাল সৃষ্টির কাজটি খবুই সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়েছে। এ জন্য প্রশাসনের একটি টিম আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। এ ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম এবং বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছেন। তিনি বলেন,‘এক সময় প্রভাবশালীরা সরকারের এই সম্পদ লুটে খেয়েছে। কখনো প্রভাব খাটিয়ে আবার কখনো মামলায় জড়িত রেখে। এখন আর এসব হবে না। এখন যেহেতু বালু মহাল হিসেবে ঘোষণা হয়ে গেছে, তাই বিধিমোতাবেক প্রতি বছর ইজারা হবে, এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে।’
জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন,‘বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদনক্রমে সুনামগঞ্জে নতুন করে তিনটি বালু মহাল সৃষ্টি করা হয়েছে। এরপর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে সেটি প্রকাশ করে বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন বালু মহালগুলোর মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। আশা করি আগামি মাসেই ইজারা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’