সরস্বতী প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

দিরাই সংবাদদাতা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। দেবীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। চলছে কাদামাটি দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরির কাজ।
শনিবার সকালে দিরাই পৌরসভার মজলিশপুর গ্রামে মৃৎশিল্পী মনোরঞ্জন পালের কারখানায় গিয়ে এমন দৃশ্যের দেখা মিলে। ছোট, বড় বিভিন্ন সাইজের প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত তিনি কাজ করে চলেছেন। এবার প্রায় ৫৫টি প্রতিমা বানাচ্ছেন মনোরঞ্জন পাল।
মৃৎশিল্পী মনোরঞ্জন পাল বলেন, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে প্রতিমা বানাচ্ছি। মজলিশপুরের কারখানায় প্রতিমা বানানোর কাজ তিনি ৩ বছর ধরে করে আসছেন। এর আগে তিনি হারনপুরে প্রতিমা তৈরির কাজ করতেন। বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। সরস্বতী পূজার দুই মাস আগে তিনি এখানে এসে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার ছেলে অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র আনন্দ মোহন পাল।
তিনি আরও বলেন, এবার বিভিন্ন সাইজের সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। কিছু বায়না নেওয়া, আবার কিছু প্রতিমা বানানো থাকে। যাতে শেষ মুহূর্তে বায়না না দিয়েও প্রতিমা কিনতে পারেন পূজারিরা।
তিনি বলেন, এবার ৫৫টি প্রতিমা তৈরি করেছি। যা সর্বনিম্ন ১০০০ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। পূজার আরও সময় আছে তাই চাহিদা বাড়লে সংখ্যাটা আরও বাড়বে।
মনোরঞ্জন পালের ছেলে আনন্দ মোহন পাল বলেন, সাজসজ্জায় যে কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়, তার দাম বেড়েছে। ফলে প্রতিমা তৈরির খরচও অনেকটা বেড়েছে। কিন্তু লোকেরা দাম দিয়ে প্রতিমা কিনতে আগ্রহী নয়। অনেকেই দামের ভয়ে গত বছরের চেয়ে ছোট মূর্তি অর্ডার করেছে।
পৌরসভার শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দিরে কাজে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পী নেপু আচার্য বলেন, শীতকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি। এবছর ৩০/৩৫ টি মূর্তি তৈরি করেছি। তিনি বলেন, আমরা ৩ জন এখানে মূর্তি তৈরির কাজ করছি।
জানা যায়, দিরাই পৌরসভার জগন্নাথ পূজা সংঘ, নবপূজ্য সংঘ, শ্যামানন্দ সংঘ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পলিটেকনিক ইস্টিটিটিউট, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম গত বছরের ন্যায় এ বছরও পূজার আয়োজন করছে।
শ্যামানন্দ সংঘের সভাপতি আশীষ রায় বলেন, প্রতিমা তৈরিতে মৃৎ শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছে। আমাদের পূজার প্রতিমা তৈরির কাজও দ্রুত গতিতে চলছে। এ বছর জমকালো আয়োজনে পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
তিনি বলেন, আমার জানা মতে দিরাইয়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের বাসা ও বিভিন্ন সংঘের আয়োজনে প্রায় হাজার খানেক পূজাম-পে দেবী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত করা হয়। ধর্মপ্রাণ পরিবারে এই দিন শিশুদের হাতেখড়ি, ব্রাহ্মণভোজন প্রথাও প্রচলিত আছে। পূজার দিন সন্ধ্যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পূজাম-পগুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, আগামী ২৬ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।