সর্বনাশা বজ্র আবারও কেড়ে নিল ৫ প্রাণ

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে বজ্রপাতের ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার জেলার চারটি হাওরে পৃথকভাবে বজ্রপাতে হতাহতের এই ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহতরা হলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পুরানগাঁও গ্রামের মৃত হজরত আলীর স্ত্রী কৃষাণি শাহারা বানু (৬২), শাহারা বানু মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় বাড়ির আঙ্গিনায় কাজ করছিলেন। এসময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। তাহিরপুর উপজেলার ভাটি তাহিরপুর গ্রাামের মুক্তার হোসেনের ছেলে কৃষক নুর হোসেন (২৮)। কৃষক নুর হোসেন দুপুর ১২ টায় শনির হাওরে জমির ধান দেখতে গিয়েছিলেন। এসময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। মঙ্গলবার ভোর রাতে গ্রামের পাশের ধানের খলায় অবস্থানের সময় দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টঙ্গর গ্রামের মুসলিম উদ্দিন (৭৫) নিহত হন। এ ঘটনায় মুসলিম উদ্দিনের ছেলে আবু সালেহ্ (২৫) ও মেয়ের জামাই সমরুজ মিয়া (৪৫) আহত হয়েছেন। দোয়ারাবাজার উপজেলার দুম্বনগাঁও গ্রামের মখলিছ আলীর ছেলে ফেরদৌস মিয়া (১২) বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। ফেরদৌস মিয়া গ্রামের পাশের হাওরে মাছ ধরতে গিয়েছিল। এসময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খিদ্দরপুরের আব্দুর রহমানের মেয়ে সুরমা আক্তার (১৮) মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় বজ্রপাতের ঘটনায় নিহত হন। হালির হাওরপাড়ের মরিচ খেতে কাজ করার সময় সুরমা বজ্রপাতের ঘটনায় নিহত
হন সুরমা। এসময় খিদ্দরপুর গ্রামের শিশু লিলি আক্তার (১০) আহত হয়। তার বাবার নাম আব্দুর রহমান।
সোমবার গভীর রাতে জামালগঞ্জের পাগনার হাওরপাড়ের ফেনারবাঁক ইউনিয়নের হটামারা গ্রামের কাছে বজ্রপাতের শিকার হয়ে আহত হয়েছে ওয়াহিদ আলীর পুত্র-তৈয়বুর রহমান (১৫), আব্দুল আহাদের পুত্র আব্দুর রহমান (১৬) , সাহেব আলীর পুত্র নবী হোসেন (২৩)। তারা রাতে হাওরে ধান পাহাড়া দিচ্ছিল। আহতদের শরীরের কিছু অংশ ঝলসে গেছে। রাতেই পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় বজ্রপাতে আহত হয়েছে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের আল আমিনের ছেলে শাহীন মিয়া (১০)। শাহীন বাড়ির আঙ্গিনায় বজ্রপাতের শিকার হয়। তাকে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
দুপুরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নের ডুংরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাহারের একটি গরু বজ্রপাতে মারা গেছে। বজ্রপাতে গরু মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডুংরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মাজহারুল ইসলাম মইনুল।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ জুয়েল বলেন,‘জেলার একাধিক হাওরে পৃথক ব্রজপাতের ঘটনায় ৫ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।