সাচনা ও ধনপুর ইউপি নির্বাচন, দল নয়, বলয়ের প্রার্থী’র পক্ষে আ.লীগ নেতারা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের উপ- নির্বাচন আগামী ২৫ জুলাই। দুই ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রভাবশালী রাজনীতিকদের বাড়ি হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা রয়েছে জেলা শহরেও। দুটি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগে বিভক্তি রয়েছে। দলীয় প্রার্থীর চেয়ে আঞ্চলিকতা ও নিজেদের বলয়ের প্রার্থীকে জয়ী করার চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
জামালগঞ্জের সাচনাবাজার ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এই রাজনীতিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে গত ১৮ জুন জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ আল আজাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এই ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে ইউনিয়নের ১৭ হাজার ২৮০ জন ভোটার ভোট দেবেন।
এই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটিসহ দলীয় পদধারীদের বেশির ভাগেই আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম শামীমের অনুসারী হিসাবে পরিচিত। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেবার জন্যও স্থানীয় আওয়ামী লীগ রেজাউল করিম শামীমের ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত আব্দুর রকিব ও মকবুল হোসেন আফিন্দি’র নাম প্রস্তাব আকারে জেলা কমিটির কাছে পাঠায়।
কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেয় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদের ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত সায়েম পাঠানকে। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে এই ইউনিয়নে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি ও বিএনপি নেতা মাসুক মিয়া। সায়েম পাঠান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবার পর কার্যত এই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের পরিচিত নেতাদের সকলেই ভোটের আলোচনায় নিস্ক্রিয় রয়েছেন। কেউ কেউ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সভাপতি প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল হক আফিন্দি’র পক্ষে প্রকাশ্যে উঠোন বৈঠক ও মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সায়েম পাঠান বলেন, জেলা কমিটির সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম, ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি জয়নাল মিয়াসহ দলের পদধারীদের বেশির ভাগেই প্রকাশ্যে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল হক আফিন্দি’র পক্ষে। তবুও জয় আমারই হবে, আওয়ামী লীগের ভোটাররা নৌকায় ভোট দেবে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নাল মিয়া বলেন. দলের প্রার্থী সায়েম পাঠানের সঙ্গে আমাদের কোন যোগাযোগ নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আঞ্চলিকতার কিছু বিষয় আছে। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা বসে আঞ্চলিকভাবে যার পক্ষে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। আমরা তার পক্ষেই থাকবো।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল হক আফিন্দি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে দল নয়, সামাজিকতা, আত্মীয়তা ইত্যাদি প্রাধান্য পায়। আমার পক্ষে কেবল আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম শামীম নয়, দলমত নির্বিশেষে সকলেই কথা বলছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখনো দলের ব্যানারে ভোটারদের একত্রিত করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাচন গেছে সবেমাত্র (১৮ জুন), ইউনিয়নের ৮০ ভাগ মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন। সায়েম পাঠান আমার বিরোধিতা করেছেন, এ কারণে ভোটাররা তার উপর ক্ষুব্ধ। এছাড়া দলীয় প্রার্থী হিসাবে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সায়েম পাঠানের নাম-ই দেয়নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা আব্দুর রকিব ও মকবুল আফিন্দি’র নাম দিয়েছে। সায়েম পাঠান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কারো সঙ্গে যোগাযোগই করেননি। আমার সঙ্গে ভদ্রতার খাতিরেও একটি ফোন দেয়নি। তাহলে আমাদেরইবা উপযাচক হয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার ঠেকা কিসের।
বিশ্বম্ভরপুরের ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে গত ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সফর উদ্দিনের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এই ইউনিয়নে ২৫ জুলাই ২৫ হাজার ৩৬৪ ভোটার ওই দিন নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।
এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসাবে উপজেলা আওয়ামী লীগ এক নম্বরে দিয়েছিল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তালুকদারের নাম। কিন্তু মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা হযরত আলী কালার চাঁন। এখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদারের ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত নুরুল আলম সাগর প্রার্থী হয়েছেন। ধনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান আবু স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আক্তারুজ্জামান মিরাস ও রুখন উদ্দিন নামে আরো দু’জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হযরত আলী কালার চান বলেন, আমি সকলের দরজায় যাচ্ছি, সকলেই নৌকার পক্ষে আছেন। আমি মনে করছি রফিকুল ইসলাম তালুকদারও আমার সঙ্গে আছেন।
রফিকুল ইসলাম তালুকদার অবশ্য বলেছেন, হয়রত আলী কালার চান এখনো আমার সহযোগিতা চাননি। তবুও আমি সকলকে নৌকার পক্ষে থাকার কথা বলছি। প্রার্থী যদি ডাকে, তার প্রচারণায় যাবো। না ডাকলে, আমি আমার মতো নৌকার পক্ষে প্রচারণা করবো।