সাচনা-সুনামগঞ্জ সড়ক / উড়ছে ধুলা, ধুঁকছে মানুষ

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার থেকে আব্দুজ জহুর সেতু পর্যন্ত এগুতে থাকলে রাস্তায় চোখ আটকে যায় ধুলায়। ধুলায় চোখের পর্দা ভেদ করে দৃষ্টি হয়তো ২০ কিংবা ২৫ হাত পর্যন্ত দেখা যায়। রাস্তার দু—পাশে দোকানগুলো পলিথিন কিংবা ত্রিপাল দিয়ে মালামাল ঢেকে রাখতে হয়। রাস্তার পাশের ভবন, বাসাবাড়ি, গাছপালা, সবই ধুলার আস্তরে ডাকা পড়ে। ভয়াবহ আকার ধারন করেছে জনজীবন। ভাঙ্গা রাস্তা তার উপর খোলা পরিবেশে ফেলে রাখা হয়েছে, রাস্তার কাজের নির্মাণ সামগ্রী। এছাড়াও ধুলার কারণে অনেক সময় যানবাহনকে দিনের বেলাও হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়। এক একটি যানবাহন পার হতেই তৈরী হয় অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ। স্থানীয় এবং যাত্রীগণের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, ধুলার কারণে রাস্তায় চলাচলকারী হাজারও মানুষ পড়েছে স্বাস্থ্য ঝঁুকিতে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাচনা বাজার সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে চলছে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তার মেরামতের কাজ। এই কাজের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বিঘ্নে দ্রুতগতির পরিবহন রাস্তায় চলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শতশত ট্রাক, সিএনজি, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চলাচল করে। রাস্তা মেরামত কাজের কারণে সৃষ্ট ধুলা বালিতে রাস্তার দু’পাশের বাসিন্দা, হাট বাজারের দোকান পাট ও যাত্রীদের জনজীবন অতিষ্ঠ।
সাচনা সুনামগঞ্জ রাস্তার পাশে নজাতপুরের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে রাস্তায় বের হওয়ার কোন পরিস্থিতি নেই। অতি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হলেও ধুলায় চোখ মুখ আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আক্রান্ত হতে হয় বিভিন্ন রোগের। এরকম পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পাওয়া দরকার।
নেয়ামত বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ধুলার যন্ত্রণায় দোকানের সামনের অংশ ঢেকে রেখেও রক্ষা পাওয়া যায় না। কয়েক মিনিটেই দোকানে ধুলার স্তর পড়ে যায়। দোকানের মালা—মাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শ^াস কষ্টের রোগী হয়ে গেছি আমি। বর্তমানে বিপদজনক মাত্রায় উড়ছে ধুলা।
সাচনা—সুনামগঞ্জ রোডের মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুছ সালাম বলেন, সড়কে আধা কেলোমিটার যেতে না যেতেই ধুলায় শরীরে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। পড়নের কাপড়—চোপড় ধুলায় সাদা হয়ে যায়।
সিএনজি চালক মিহির সরকার বলেন, গাড়ির গতি বাড়ালে ধূলা উড়ার গতিও বাড়ে। ধুলায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো সড়ক। ধুলা আমাদের এবং যাত্রীদের জীবন অতিষ্ট করে তুলেছে। যাত্রীরা তো ধুলায় মাখামাখি হয়ই, পাশাপাশী আমাদের গাড়িও নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় গাড়ির গতি ধরে রাখা যায় না। এতে বিভিন্ন সময় ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শান্তিময় ভট্টাচার্য্য বলেন, রাস্তার উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম নীতি মানা হচ্ছে না। ধুলার জন্য পানি ছিটানোর কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। যার কারণে প্রতিদিন ধুলোবালির মাঝেই অফিসে আসা যাওয়া করতে হয়।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম প্রামনিক জানান, ধুলাবালির ব্যাপারে আমি কন্ট্রাকটারকে বলে দিয়েছি, ওয়াটার ট্যাংক দিয়ে পানি দেওয়ার জন্য। আশা করি দুই একদিনের মধ্যেই ধুলা বালির সমস্যা আর থাকবে না। এছাড়াও আগামী সপ্তাহের মধ্যে রাস্তায় কার্পেটিং এর কাজ শুরু হবে।