সাজেক ভ্যালি থেকে প্রেমপত্র

মিহির রঞ্জন তালুকদার
প্রিয় মিথি,
২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ জন্মদিন উৎযাপন করতে এসেছি সুদূর সাজেক ভ্যালি। আমি এখন সাজেক ভ্যালির সর্বোচ্চ চূড়ায় দাড়িয়ে আছি। জানিনা তোমার আমাকে মনে আছে কিনা। মাত্র ৪ ঘন্টার দেখা, মনে থাকার কথা নয়। কিন্তু আমার মনে আছে এই চার ঘন্টা তোমায় কাছ থেকে দেখেছি একান্ত আপন মনে। তাই সাজেক ভ্যালি এসে কেন জানি তোমাকেই মনে পড়ল। তাই লিখছি।
আমি যেখানে এখন বসে আছি সেখান থেকে আকাশ খুব একটা দূরে নয়। লোকে বলে এটি মেঘের রাজ্য, প্রায়ই মাথার উপর দিয়ে মেঘ ভেষে বেড়ায়। এমন এক অদ্ভূত জায়গায় এসে আর কাকেই বা মনে পড়তে পারে। বাংলাদেশের প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যরে এক অনন্য আধার এই সাজেক ভ্যালি।
ভারতের মিজোরামের পাদদেশ বাংলাদেশের রাঙ্গামটির শেষাংশ সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ মিটার উপরে সাজেক ভ্যালির অবস্থান। যেন বাংলাদেশের ভেতরে আরেক বাংলাদেশ। এমন মনোমুগ্ধকর জায়গায় এসে তোমার কথা না ভেবে থাকতে পারি!
জানি না ঠিকানা বিহীন এ চিঠি তোমার কাছে পৌছাবে কিনা? পূর্বেও কবি সাহিত্যিকেরা আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখার কথা বলত। আমরা তাদের পাগল বলে চালিয়ে দিতাম এই ভেবে যে, আকাশের ঠিকানায় আবার চিঠি হয় নাকি। কিন্তু আজ ঠিকই মানুষ আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখে এবং পৌছেও যায়। ই-মেইল, হোয়াটসআপ, ম্যাসেজ আসলে আকাশের ঠিকানায়ই আসে। কবি সাহিত্যিকেরা হয়ত এমনই কল্পনা করত। তাই আমিও আজ আকাশের ঠিকানায় লিখছি। কারণ তোমার ঠিকানা বলতে এই নামটি ছাড়া আর কিছুই নেই।
তাই এই ঠিকানায় লিখতে সাহস পাচ্ছি।বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিজিবি ক্যাম্পে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, এখান থেকে নাকি আকাশের মেঘ ছুঁয়া যায়। আমিও দেখব মেঘ ছুঁতে কেমন লাগে। কপাল ভাল থাকলে তোমাকেও একদিন নিয়ে আসব।
বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু যায়গা, মিজুরামের পাদদেশের আকাঁবাঁকা উঁচু নিচু রাস্তায় তুমি ভয় পাবেনা তো? তোমার মত এখানে অনেকেই আছে, আসার সময় রাস্তায় তাদের দেখেছি, পাহাড়ি ঢালো রাস্তায় গাড়ি থেমে যাচ্ছে আর উঠতে পারছে না। সামান্য এদিক সেদিক হলেই গাড়ি গড়িয়ে নিচে নামবে মানুষগুলোর অস্তিত্ত্ব থাকবে না। কিন্তু এত ভয়ের পরেও তাদের আনন্দ উল্লাসের কমতি নেই। কারণ আকাশের মেঘ ছুঁয়ার এক অদম্য বাসনা তাদের ঘিরে রেখেছে। তারাই পারবে একদিন বিশ্বকে জয় করতে। তাদের ভেতরকার শক্তি আমি প্রত্যক্ষ করেছি। কোনো বাধাই তাদের থামাতে পারবে না।
তোমাকেও নিয়ে আসব কিন্তু ভয় পেলে চলবে না।
জান এখানকার কলা অত্যন্ত মিষ্টি। বাগান থেকে তুলে এনে সরাসরি এরা বিক্রি করে, ফরমালিন কী তারা চিনে না। সবচেয়ে আশ্চর্য হলাম এখানের পেঁপে খেয়ে আধা পাঁকা পেঁপে বিক্রি করে খুব মিষ্টি কিন্তু গাঁজরের মত শক্ত। ভাবছি তোমার জন্য একটি পেঁপেও পাঠিয়ে দেব আকাশের ঠিকানায়। আচ্ছা তুমি পেঁপে পছন্দ কর? পেঁপে আমার পছন্দের একটি ফল। এজন্য আমি পেঁপেকেই ফলের রাজা মানি, আম নয়।
আগে জানতাম সিলেট কমলা চাষের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু না বাংলাদেশে কমলা চাষের জন্য বিখ্যাত জায়গা এই সাজেক।
এখানকার আবহাওয়া বড়ই অদ্ভূত । কখনো খুবই গরম একটু পরেই আবার বৃষ্টি। আর কিছুক্ষণ পরই সন্ধ্যা নেমে আসবে চারদিক ঢেকে যাবে কুয়াশার চাদরে। সোলারের বাতিগুলো জ্বলে উঠলে প্রকৃতি যেন তার চির যৌবন ফিরে পায়।
প্রিয় মিথি যেখানেই থাক ভাল থেকো।
ইতি
মিহির রঞ্জন তালুকদার
শিক্ষক ও লেখক
ঠিকানা-
বাঁধন ৪৯, মহিলা কলেজ রোড, সুনামগঞ্জ।
প্রভাষক, বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ,সিলেট। ০১৭১২৪৮৭৪৪৮