সাদিপুরের বসন্ত মেলা বাঙালি সংস্কৃতির জয়গানে মুখরিত হোক

জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামে আয়োজিত বসন্ত মেলায় অশ্লীল যাত্রানুষ্ঠানসহ জুয়ার আসর বসানোর আশংকায় স্থানীয় লোকজন ওই মেলা আয়োজনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছেন। মেলার আয়োজন বন্ধ করতে গ্রামের তিন শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষর করা একটি স্মারকলিপি জগন্নাথপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দাখিল করা হয়েছে মর্মে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। মেলার নামে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকা-ের অভিযোগ বেশ পুরানো। এই অসামাজিক অনুষঙ্গসমূহ আমদানির ফলে গ্রাম বাংলার চিরাচরিত সাংস্কৃতিক উপাদান সম্বলিত মিলনক্ষেত্র মেলাগুলো আজ নিজ চরিত্র হারিয়ে অপপ্রচার ও মানুষের বিরোধিতার শিকার হয়েছে। মেলার নামে কখনও কোন জুয়া কিংবা নেশার আসর বসানো সমর্থনযোগ্য নয় বরং এগুলো কঠোর হাতে দমন করা দরকার। কিন্তু মেলা হলেই এতে জুয়া কিংবা নেশার আসর বসানো হবে এমন পূর্বানুমান সহকারে মেলা আয়োজনের বিরোধিতাও সমর্থনযোগ্য নয়। আমাদের সমাজে বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশের বিপক্ষে একটি শক্তিশালী পক্ষ সবসময় ক্রিয়াশীল। এই শক্তিটি গ্রামীণ মেলাগুলোকে বিরোধিতার লক্ষ্যবস্তু তৈরি করেছে। আর এই বিরোধিতাকে শক্তিশালী করতে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখছেন কিছু স্বার্থান্ধ অবিবেচক মেলা-আয়োজকরা। মাথা ব্যথার নাম করে পুরো মাথা কেটে ফেলার মতো মেলার মতো একটি নির্মল বিনোদনের উপকরণ হারিয়ে যাক এটি কখনও কারও কাম্য হতে পারে না। তাই মাথা কাটার পরিবর্তে কিভাবে মাথা ব্যথা কমানো যায় তাই লক্ষ্য হওয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি।   
স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ভিন্ন কোথাও কোন ধরনের মেলা আয়োজন করা যায় না। আয়োজিত মেলাগুলো প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে থাকে। তাই প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মেলায় জুয়া বা নেশার মতো অসামাজিক আয়োজন সম্ভব বলে কেউ মনে করেন না। এমন বলা অসংগত হবে না যে, মেলায় যে অসামাজিক উপসর্গগুলোর অনুপ্রবেশ ঘটেছে তার পিছনে তথাকথিত মেলার আয়োজকবৃন্দের সাথে প্রশাসনিক ব্যক্তিরাও সমভাবে দায়ী। যারা অসামাজিক কর্মকা-ের কারণে মেলা আয়োজনের বিরোধিতা করছেন তাদেরকে এই বিষয়ে সচেতন হয়ে প্রকৃত কর্তব্য ঠিক করতে হবে। মেলায় যাতে কোন ধরনের অসামাাজিক কর্মকা- চলতে না পারে সেটি নিশ্চিত করাই কার্যত সকলের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিৎ।
মেলা গ্রামীণ বিনোদন হিসেবে আদিকাল থেকে সমাদৃত। এই মেলার সাথে স্থানীয় মানুষের নানা ধরনের বিশ্বাস, প্রথা বা মূল্যবোধের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আধুনিকতার বৈশিষ্ট্য গায়ে জড়িয়ে সম্প্রতি জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ঋতুভিত্তিক নানা ধারাও এসে মেলার সাথে মিলিত হয়েছে। এই মিলনকে অস্বীকার করা যাবে না। একে গ্রহণের মধ্য দিয়েই আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি বিকশিত হবে। জগন্নাথপুরের সাদিপুরে কথিত বসন্ত মেলার নামের মধ্যে এরকম একটি সাংস্কৃতিক দায়বোধ ফুটে রয়েছে। আমরা চাই সাদীপুরের লোকজন সবধরনের খারাপ অনুষঙ্গ বর্জন করেই বসন্ত মেলাটি উদযাপন করবেন। আর অনুমানস্বাপেক্ষে যদি তারা মেলা আয়োজনের বিপক্ষেই অবস্থান বজায় রাখেন তাহলে সেটি হবে বেদনাদায়ক। খারাপকে বর্জন আর ভালকে গ্রহণ করার মধ্যে যে তৃপ্তি তা মূর্ত হয়ে উঠুক সাদিপুরের বসন্ত মেলায়, বসন্ত মেলাটি বাঙালি  সংস্কৃতির জয়গানে মুখরিত হোক, এই আমাদের কামনা।



আরো খবর