সাব রেজিস্ট্রি অফিসে অবিলম্বে সিটিজেন চার্টার টানানোর ব্যবস্থা করা হোক

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রারের বেপরোয়া কর্মকা- নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইতোমধ্যে বেশকিছু সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কিন্তু এতে করে তার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা সুলভ মনোভাব ফিরে আসেনি। বরং তার মধ্যে জনগণকে সেবা দানের নামে হয়রানি করা, নির্ধারিত ফির চাইতে রেজিস্ট্রি খরচ বাবদ অনেক বেশি অর্থ আদায় এবং দাম্ভিক মানসিকতা, ইত্যাদি আগের মতোই রয়ে গেছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রার খায়রুল বাশার পাভেল সরকারের একজন নবীন কর্মকর্তা। ভূমি রেজিস্ট্রির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সরকার তাকে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত কিনা সেটি ভাববার সময় হয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়। কারণ জনগণকে সেবা দানের জন্য সরকার যে কর্মকর্তাকে পদায়ন করেন তিনি যদি কার্যক্ষেত্রে তার উলটো কাজকর্ম করেন তাহলে তিনি নিজ দায়িত্ব পালনের অনুপযুক্ত বলেই বিবেচিত হওয়ার কথা।
সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করতে যেয়ে তার অনভিপ্রেত আচরণের সন্মুখিন হয়ে থাকেন। গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য জানতে চাইলে পূর্ব অনুমতি গ্রহণের কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন, ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন করলে তিনি বিরক্ত হন, সরকারি সিম না পাওয়া পর্যন্ত ফোন না করার জন্য তিনি উপদেশ দেন, সিটিজেন চার্টারের বিষয়ে জানতে চাইলে উল্টো তিনি সিটিজেন চার্টার সম্পর্কে সাংবাদিকের জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন, এমনকি তিনি সাংবাদিকদের আইসিটি আইনে মামলা করারও হুমকি প্রদান করেন। এসব তথ্যই উঠে এসেছে গতকালের সংবাদে। আসলে জনগণ যদি কোন সরকারি দপ্তরে যথাযথ সেবা পেতে বিড়ম্বনার সন্মুখীন হন এবং হয়রানি ও উৎকোচের শিকার হন তখন সেটি সংবাদের বিষয়বস্তু হয়ই। এসব বিষয়ে তথ্য জানা সাংবাদিকের পেশাগত অধিকার সীমার মধ্যেই পড়ে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিলে বেফাঁস কোন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে এমন আশংকা থেকেই বোধ করি তিনি এমন বেপরোয়া আচরণ করে থাকেন। তার জানা থাকা উচিৎ জনস্বার্থে কোন তথ্য দান করা তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এটি না করা বরং অপরাধরূপে গণ্য হয়।
সরকার প্রতিটি অফিসে উন্মুক্ত এবং সকলের নিকট দৃশ্যমান স্থানে সিটিজেন চার্টার টানানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য। সেবাগ্রহীতা সংশ্লিষ্ট সেবাটি কোন উপায়ে, কতদিনের মধ্যে, কার নিকট থেকে, কত টাকা খরচে পেতে পারে; এসব বিষয়ই সিটিজেন চার্টারে বিবৃত থাকে। সরকার প্রতিটি সরকারি-স্বায়ত্বশাসিত অফিসে এই সিটিজেন চার্টার টানানোকে আবশ্যকীয় করেছেন। এছাড়াও সেবা দানের যাবতীয় তথ্য অনলাইনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দিয়ে রাখার কথা। কিন্তু দক্ষিণ সুনামগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এরূপ কোন সিটিজেন চার্টার টানানো নেই। ফলে জমি ক্রেতা জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে বুঝতে পারেন না আসলে সরকার নির্ধারিত প্রকৃত ফি কত। অফিস সংশ্লিষ্টদের কথা মতোই জমি ক্রেতাকে অর্থ দিতে হয়। এতে জমি রেজিস্ট্রি করতে ক্রেতার অনেক বেশি টাকা খরচ হয় বলে সাধারণভাবেই অভিযোগ আনা হয়। এটি শুধু দক্ষিণ সুনামগঞ্জে নয় বরং সর্বত্রই এমন বাস্তবতা বিদ্যমান।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ সহ সবগুলো সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যাতে অবিলম্বে জমি ক্রয়ের রেজিস্ট্রি খরচের তথ্য সহ সিটিজেন চার্টার অবিলম্বে টানানো হয় সেটি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আমরা অনুরোধ জানাই। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে সেগুলোও যথাযথ তদন্ত প্রক্রিয়ার আওতায় আসা উচিৎ বলেও আমরা মনে করি।