সাহিত্য মেলা বিষয়ক ভাবনা

এস ডি সুব্রত
আমাদের ভাষা বাংলা। আমরা বাংলা ভাষার মাধ্যমে নিজেদের মনের ভাব একজন অন্যজনের কাছে প্রকাশ করে থাকি। আর এই প্রকাশটাই যখন বিশেষ কোনো ভাবে সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে লিখিত আকারে প্রকাশ হয় ঠিক তখনই এটিকে সাহিত্য হিসেবে ধরা হয়। সাহিত্য শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লিখন শিল্পকে এককথায় সাহিত্য বলা যায়। ইন্দ্রিয় দ্বারা জাগতিক বা মহাজাগতিক চিন্তা চেতনা, অনুভূতি, সৌন্দর্য্য ও শিল্পের লিখিত প্রকাশ হচ্ছে সাহিত্য। গদ্য, পদ্য ও নাটক এই তিন ধারায় প্রাথমিকভাবে সাহিত্যকে ভাগ করা যায়। গদ্যের মধ্যে প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প ইত্যাদি এবং পদ্যের মধ্যে ছড়া, কবিতা ইত্যাদিকে শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। সাহিত্যের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Literature. সাহিত্য শিল্পের একটি বড় অংশ হিসেবে পরিচিত। শিল্পের ছোঁয়া দিয়ে একটি সাধারণ লেখনীকে যখন অন্যসব লেখনী থেকে আলাদা করে তোলা হয় তাকেই সাহিত্য বলে। সাহিত্য মূলত দু’প্রকার। যথা— দেশি বা স্থানীয় সাহিত্য এবং বিশ্ব সাহিত্য বা বিদেশি সাহিত্য। আবার ধরণ অনুযায়ীও সাহিত্য দু’প্রকার। যেমনঃ পদ্য এবং গদ্য। অনেকে আবার ‘নাটক’ কেও সাহিত্যের একটি প্রধান শাখা হিসেবে দেখে থাকে। সাহিত্য হচ্ছে
সমাজের আয়না। যেখানে সমাজের বিভিন্ন প্রতিবিম্ব ফুটে উঠে এই সাহিত্যের মাধ্যমে। আর এই সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন রূপ চোখের সামনে দেখতে পাবেন। অর্থাৎ, চোখের সামনে ভেসে উঠবে সেই সময়কার পরিবেশ পরিস্থিতি, সমাজ বাস্তবতার, ন্যায়—অন্যায় প্রভৃতি। তাই প্রতিনিয়তই সাহিত্য চর্চা করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাক্তি ও জাতির মনন বিকাশের জন্য সাহিত্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তন হয়েছে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। হিন্দুধর্ম, ইসলাম, বৌদ্ধ এবং তৎকালীন বাংলার লৌকিক কাহিনীসমূহ নিয়ে গড়ে উঠেছিল বাংলা সাহিত্য। বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে প্রাচীনতম নিদর্শন হচ্ছে চর্যাপদ। একেবারে শুরুর দিকে বাংলা সাহিত্যের শিল্পকর্মগুলো ছিল — রামায়ণ, মহাভারত বঙ্গানুবাদ, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদাবলি, বৈষ্ণব পদাবলি, নাথসাহিত্য, বাউল পদাবলি, পীরসাহিত্য এবং ইসলামি ধর্মসাহিত্য। মানুষের চিন্তা, ভাব, আবেগ, অনুভূতি, কল্পনা— এ সবই সাহিত্যের উপজীব্য। এগুলোকে সামনে রেখে মানুষ এগিয়ে যায় প্রগতির পথে। সমাজের সর্বত্র প্রতিনিয়ত রদবদল হচ্ছে। ফলে মানুষের জীবনাচরণেও আসে পরিবর্তন। সাহিত্যের ভূমিকা শুধু অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভবিষ্যৎ পৃথিবী কেমন চাই তারও চিত্র এঁকে দেয় সাহিত্য।
সাহিত্যচর্চার ফলে মানুষের জৈবিক ও আত্মিক— এ দুই সত্তারই উৎকর্ষ সাধন হয়। সাহিত্য ব্যক্তিকে মার্জিত করে তোলে এবং আবেগ, অনুভূতি ও মূল্যবোধকে জীবনের সামগ্রী করে নেয়ার প্রেরণা জোগায়। মনকে সুন্দর ও সজীব করে তোলে সাহিত্য। কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, বিচারহীনতা— এসব সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরম শত্রু এবং সমাজ—প্রগতির প্রবল বাধা। মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ, কথা ও কাজের মিল, পোশাক—পরিচ্ছদ, ব্যবহার, বিনয়, ন¤্রতা, ভদ্রতা— এগুলোও সাহিত্যের অংশ। সাহিত্য সত্য, সুন্দর, আনন্দময় অনুভূতিতে পাঠক হৃদয়কে জাগিয়ে তোলে। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহিত্যপাঠ একটা সুন্দর ও অন্যতম মাধ্যম। সাহিত্য মানবমনের চিরকালের মুক্তির সরোবর। সাহিত্য পাঠের চেয়ে মহৎ আনন্দ আর দ্বিতীয়টি নেই। সাহিত্যপাঠের মাধ্যমে আমরা লাভ করি জগৎ ও জীবনের উপলব্ধি। সেই সঙ্গে আমরা উপলব্ধি করি নিজেকে। সাহিত্যপাঠের মতো নির্মল ও পবিত্র আনন্দ আর নেই পৃথিবীতে। জীবন প্রত্যক্ষ ও কঠিন বাস্তব। তাই সাহিত্য ও শিল্পকে বাস্তবধর্মী না হয়ে উপায় নেই। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী চরণটি উল্লেখ করতে হয়— ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম।’ শিল্প—সাহিত্যের পথ দেখিয়ে দিয়েই সাহিত্যিকের কাজ শেষ হয়ে যায় না; ব্যক্তি ও ব্যবহারিক জীবনে এর চর্চা অতীব জরুরি। সময়ের তালে তালে সাহিত্যের ভূমিকা পাল্টে যেতে বাধ্য। সাহিত্য যদি মানুষের চরিত্রের ওপর কোনো ধরনের প্রভাব রাখতে না পারে, তাহলে জীবন সংগ্রামে সাহিত্যের যে গুরুত্ব রয়েছে, তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। বাংলা সাহিত্য নিয়ে যারা কাজ করছেন, বেশীরভাগ কবি লেখকগণ নিজের তাগিদেই লেখালেখি করছেন। প্রাপ্তির কথা না ভেবেই লেখালেখি শুরু করেন অনেকেই। অনেকে অর্থনৈতিক দৈন্যতার মধ্যে থেকেও সাহিত্য সাধনা চালিয়ে যান নিরবে। তবে সত্যি কথা বলতে আমাদের দেশে বেশির ভাগ লেখকগন সঠিক মূল্যায়ন পান না। সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা থাকলেও সাহিত্যিকদের জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। কিছু কিছু পত্রিকা ও ম্যাগাজিন কিংবা ছোট কাগজ সম্মানীর ব্যবস্থা করলেও বেশীরভাগ পত্রিকা থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয় না। শহরে যারা লাইম লাইটে আছেন তারা সামান্য সুযোগ সুবিধা পেলেও মফস্বল এলাকায় লেখককরা একেবারেই বঞ্চিত। বর্তমান সরকার জেলায় জেলায় সাহিত্য ও সংস্কৃতি মেলার আয়োজন করে লেখকদের প্রাণে একটা আশার সঞ্চার করেছেন। সরকারের এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির উদ্যোগে ২০২২ সালে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে জেলা সাহিত্য মেলা ও সংস্কৃতি মেলা। প্রতি জেলায় দুই দিনব্যাপী মেলায় সাহিত্য ও প্রবন্ধপাঠ এবং আলোচনার সঙ্গে থাকছে লেখক কর্মশালা। সাহিত্যের বিভিন্ন ধরন, ছন্দ, বানান, বাক্য গঠন নিয়ে এ কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকর্ম জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সাহিত্য মেলা। ‘জেলার কথাসাহিত্য: নাটক, প্রবন্ধ ও অন্যান্য’ শীর্ষক তিনটি বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হচ্ছে। সেই প্রবন্ধ নিয়ে হচছ আলোচনা। জেলা পর্যায়ের মেলাগুলোয় পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রথম পর্যায়ে ২—৩ জুলাই সাহিত্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে গোপালগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গায়। গোপালগঞ্জে সাহিত্য মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলা একাডেমির সমন্বয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় সাহিত্য মেলা অনুষ্ঠিত হল। এ মেলা জল জোছনার শহরে সুনামগঞ্জ জেলার কবি ও লেখকদের অংশগ্রহণে একটা প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে রুপ নেয়। সুনামগঞ্জ সাহিত্য মেলা ২০২২ এ বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও গবেষক ড: মোহাম্মদ সাদিক তার বক্তব্যে বলেন, যে সাহিত্য স্বাধীনতার কথা বলে, দেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরে যে সাহিত্য ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরে সে সাহিত্য চর্চা করতে হবে। সুনামগঞ্জ সাহিত্য মেলায় আগত কবি ও লেখকদের প্রবন্ধ উপস্থাপন, কবি জাকির জাফরানের সঞ্চালনায় সাহিত্য আড্ডা ও স্বরচিত কবিতা পাঠ ছিল প্রাণবন্ত। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে দুই দিনব্যাপী। সুনামগঞ্জের তিনজন গুণী লেখক ও শিল্পীকে দেয়া হয়েছে পুরস্কার। সবার চাওয়ার প্রতিফলন না ঘটলেও সাহিত্য মেলা শুরু হওয়াটাও লেখকদের জন্য একটা সুখবর। সাহিত্য মেলা পুরোপুরি সফল হয়েছে কিনা, সেটা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ, বিভিন্ন অভিযোগ আছে। ব্যবস্থাপনা , তাত্ত্বিক জ্ঞান, একে অপরের জিজ্ঞাসায় জানার এবং বোঝার বৃহৎ পরিসর তৈরি করা নিয়ে কিছুটা ঘাটতির রয়েছে ঠিক। কিন্তু একটা কাজ প্রথম শুরু করলে ভুল ভ্রান্তি কিংবা ঘাটতি থাকতে পারে। সেসব ঘাটতি দূর করতে পারলে জেলায় জেলায় সাহিত্য মেলার আয়োজন অবশ্যই লেখকদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে সাহিত্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগটি যারা নিয়েছেন তারা এখানে ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। এখানে রাষ্ট্র লাভবান হয়েছে। লেখকরাও লাভবান হয়েছেন। অনেক লেখক যাদের অনেকেই চিনত না বা যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে তেমন গ্রহণযোগ্য ছিলেন না তারাও এখন রাষ্ট্রের লেখক তালিকায় চলে আসলেন। এতে করে সাহিত্য বিকাশে একটা বিপ্লবের সূচনা হয়েছে বলা যায়। এ ধারা অব্যাহত থাকুক। সাহিত্য রচনার সঙ্গে সাহিত্য পৌঁছানোর একটা দায় বর্তমান সময় আমাদের ঘাড়ে তুলে দিয়েছে সরকার এই মেলার মাধ্যমে। আমরা যারা লেখালেখি করি তাদের উচিত এই অগ্রযাত্রা যাতে অব্যাহত থাকে সে লক্ষ্যে কাজ করা। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগটি যাতে সফল হয় সে দায় যেমনি আয়োজকদের রয়েছে তেমনি সাহিত্যিকদেরও রয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে যেসব অভিযোগ ও পরামর্শ আসছে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেগুলো খতিয়ে দেখা দরকার এবং ভাল দিকগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে উদ্যোগটির সফলতার পাল্লা ভারী হবে নিঃসন্দেহে। বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ জায়গাটিতে কাজ করতে চেয়েছে। সাহিত্য পৌঁছে দিতে হবে সবার মনের কাছে , মনের দর্পণে। উদ্যোগটি এ অর্থে দারুণ কিন্তু উদ্যোগটি বাস্তবায়নে যারা থাকছেন তারা বেশির ভাগ সময়ই সাহিত্যের বাইরের মানুষ। সাহিত্য সংশ্লিষ্ট ও সাহিত্যমনা মানুষদের অংশগ্রহণ যত বেশি নিশ্চিত করা যাবে উদ্যোগটি তত বেশি সফল হবে বলে আশা করি। সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ভাষা একই সমতলে থাকে বলে কথা বলার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম এই মাধ্যমকেই ধরা হয়। সাহিত্য কর্মের সঙ্গে জড়িত মানুষগুলোর কথা বলার যত বেশি সুযোগ সৃষ্টি করা যাবে ততই সফলতা পাওয়া যাবে এবং তা উন্নত দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাহিত্য মেলায় যে প্রবন্ধগুলো পাঠ হবে তা যেন হয় খুব সাবলীল ও খুব তাত্ত্বিক হয় সেদিকে জোর দিতে হবে। বেশি সময় ধরে প্রবন্ধ পাঠের পর তা আলোচনা করার সময়ও আর থাকে না। এজন্য সাহিত্যবিষয়ক একটি টিম আগে থেকেই করে দেয়া যেতে পারে। যারা প্রবন্ধ সংগ্রহ করবেন, সময় ঠিক করে দেবেন এবং কী কী আয়োজন থাকছে তার একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া থাকবে। এ আয়োজন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ থাকার প্রয়োজন আছে। কারণ রাজনীতিবিদরাই দেশের আইন প্রণয়ন করেন ও দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আজকে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ তো রাজনীতিরই সুফল। সাহিত্যের সাথে জ্ঞানভিত্তিক রাজনৈতিক সদিচ্ছার একটি মেলবন্ধন রয়েছে। এটা আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই মেলা আয়োজনের সঙ্গে একদিকে প্রয়োজন প্রবীণ লেখক যারা আছেন বা যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের সম্মানিত করা। তেমনি নবীণ প্রতিভাবান লেখকদের সম্মানিত করার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। যাতে করে তরুণ প্রজন্মের লেখকরা তাদের লেখার মাধ্যমে উন্নত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ তরুণরাই আগামীর দেশগড়ার কারিগর। প্রতিটি জেলার লেখক মুক্তিযোদ্ধা বা বুদ্ধিজীবীদের তথ্য উপস্থাপন করা এবং তাদের বিষয়ে আলোচনা করা এবং তাদের সম্মানিত করতে পারলে ভাল হবে। এ উদ্যোগটি পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করতে পারলে অনেক প্রতিভা বেড়িয়ে আসবে। প্রতি বছর সাহিত্যকর্মের ওপর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কারও ঘোষণা করা গেলে লেখকদের জন্য ভাল হবে। সাহিত্য মেলা উপলক্ষে বই মেলার আয়োজন দুই দিনব্যাপী করা যেতে পারে। এ মেলায় একটি অংশে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করাতে পারলে তারা অনুপ্রাণিত হবে এবং তার জেলার লেখকদের সম্পর্কে জানতে পারবে। সাহিত্য মেলায় অংশগ্রহণকারী সকল কবি ও লেখকদের অন্তত পক্ষে একটি সম্মাননা সনদ ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মানিত করলে ভালো হতো। অনেক জেলায় এটি করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ সাহিত্য মেলায় এ কাজটি করতে পারলে খুব ভাল হতো। কবি ও লেখকগণ স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারতেন। জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ ও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই যাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সাহিত্য মেলা সম্পন্ন হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, সাহিত্য এমন এক বিষয় যা মানুষের অন্তদৃর্ষ্টি প্রসারিত করে, মনে আনন্দ দেয়। মানব জীবনের অনুভূতিও প্রতিফলিত হয় প্রতিনিয়ত। যার ফলে সাহিত্য চর্চা করাটা অতীব জরুরী সকলের জন্য। আর এ আলোর পথে শুভ যাত্রায় সাহিত্য মেলা বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি ও জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি সুন্দর আয়োজন করার জন্য, লেখকদের জন্য একটি মিলনমেলা তৈরি করে দেয়ার জন্য।
লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক, সুনামগঞ্জ।