সিএইচসিপিগণের আন্দোলন- আন্দোলন ও সেবা দানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন

কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) গণের চাকুরিগত ন্যায়সংগত দাবি দাওয়ার বিষয়ে কারও কোন দ্বিমত নেই কিন্তু তাই বলে তাঁরা আন্দোলনের নামে লাগাতার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখবেন এটি কখনও কাম্য নয়। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত সিএইচসিপিগণ চাকুরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে সারা দেশে একযোগে আন্দোলনরত আছেন। অবস্থান কর্মসূচী, কর্মবিরতির পর তাঁরা এখন রাজধানীতে অনশন কর্মসূচী পালন করছেন। আন্দোলনের কারণে মূলত দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সিএইচসিপিগণ কোন কাজ করছেন না। ফলে ক্লিনিকগুলোতে সেবা নিতে আসা গ্রামীণ নারী ও পুরুষরা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে জানা যায়, জেলার অনেকগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। স্বাস্থ্যবিভাগে মাঠ পর্যায়ে জনবলের প্রচুর সংকট রয়েছে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে অনুমোদন মোতাবেক জনবল নেই। উপরন্তু সিএইচসিপিদের আন্দোলন ও কর্মবিরতির ফলে এইসব গ্রামীণ ক্লিনিক এখন প্রচ- সংকটে পতিত হয়েছে। অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান না হলে আমাদের ভঙ্গুর গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিসেবা কাঠামো একেবারে স্থবির হয়ে যাবে।
কমিউনিটি ক্লিনিক আওয়ামী লীগ সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ। ১৯৯৬ সনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ১৯৯৮-২০০১ মেয়াদে সারা দেশে এক হাজারের বেশি ক্লিনিক নির্মিত হয়। ২০০১ সনে সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপি এই কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সনে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসলে এই কার্যক্রম আবারও শুরু করা হয়। কমিউনিটি ক্লিনিক ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ন্যুনতম সেবা প্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হয়। দেশের মানুষ ভীষণ রকম খুশি ছিলেন এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিয়ে। সিএইচসিপি বা কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডাররা কমিউনিটি ক্লিনিকের অপরিহার্য অংশ। এদের বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার এই কাঠামোটি অনেকটা অপূর্ণাঙ্গ। সুতরাং এই পদে নিযুক্তদের চাকুরিগত অনিশ্চয়তা দূর করা আবশ্যকীয়। প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের সরকারি বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। তদুপরি সিএইচসিপিদের চাকুরির বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও আছে। সরকার এর আগে তাদের আশ্বস্তও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকুরির অনিশ্চয়তা দূর হয়নি বলে এখন তারা চূড়ান্ত আন্দোলনে নেমেছেন। সেবাদানকারীদের মুখে হতাশা রেখে তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা আদায় করা সত্যিকার অর্থেই কঠিন। সুতরাং সারা দেশে বিপুল সংখ্যক সিএইচসিপিদের চাকুরিগত অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ বাঞ্ছনীয়।
আন্দোলনরত সিএইচসিপিগণের প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনারা নিজেদের দায়িত্ব পালন বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন সংগ্রামের ভ্রান্ত পথ থেকে ফিরে আসুন। নতুবা আপনাদের দায়িত্ব পালন না করায় গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিসেবায় সংকট সৃষ্টির কারণে উদ্দীষ্ট জনগোষ্ঠী যে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন সেই দায় আপনাদের বহন করতে হবে। দায়িত্ব পালন করেও কীভাবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় সেই পথেই হাঁটা উচিৎ। এতে সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন ও সহনাভূতি আপনাদের পক্ষে থাকবে।
সর্বশেষে সিএইচসিপিগণের চাকুরি সংক্রান্ত ন্যায়সংগত দাবি দাওয়া পূরণে আমরা সরকারের আশু পদক্ষেপ কামনা করি।