সিন্ডিকেটের কবলে পেঁয়াজের বাজার

আল আমিন
সিন্ডিকেটের কবলে সুনামগঞ্জে পেঁয়াজের বাজার। গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশের সাথে সুনামগঞ্জেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কেজিতে দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বেশি দামে পেঁয়াজ ক্রয় করতে হচ্ছে তাই দামও বেশি। এটা অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারসাজি। তারা সুযোগ বুঝে অতি মুনাফার লোভে গত তিনদিনে পেঁয়াজের বাজার বেসামাল করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে শহরের মধ্যবাজার, জগন্নাথবাড়ী, জেলরোড সবজি বাজার, কাজিরপয়েন্ট, ষোলঘর পয়েন্ট, নবীনগর পয়েন্টে ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। তিনদিন আগেও বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫৫-৬০ টাকা। কিন্তু ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা দেয়ার পর কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ৪০-৫০ টাকা। অথচ মজুদদারদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ স্টক করা আছে বলে জানিয়েছেন মুদি দোকানীরা।
খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করে জানান, শহরের কয়েকজন বড় ব্যবসায়ী তাদেরকে জিম্মি করে রেখেছে। খুচরা ব্যবসায়ীদেরকে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য করছে। তারা গোডাউনে পেঁয়াজ স্টক রেখে বেশি দামে বিক্রি করছে বলে জানান। যদি মজুদদাররা পেঁয়াজ স্টক না রেখে বাজারে খুচরা মূল্যে ছেড়ে দিতো তাহলে এই দাম বাড়তো না। কিন্তু অতি মুনাফার লোভে এই অসাধু বড় বড় ব্যবসায়ী তাদের নিজস্ব গোডাউনে পেঁয়াজ স্টক রেখে বাজারে দাম বাড়িয়েছেন। তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে পেঁয়াজ বাজার।
মদন বর্মন নামের এক ক্রেতা জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই একরাতে পেঁয়াজের দামটা বেড়েছে। বেশি দামে পেঁয়াজ ক্রয় করতে হচ্ছে। দামটা বেশি হয়ে গেছে। তিনি পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন ৯০ টাকা করে।
মুদি দোকানী আব্দুল খাইয়ূম শিপু বলেন, পেঁয়াজ মজুদদারদের কাছ থেকে ৮৫ টাকা কেজিতে ক্রয় করে ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু যারা মজুদ করে পেঁয়াজ রাখছে তারা যদি কম দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি না করে তাহলে আমরা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য। লোকসান দিয়েতো আর বিক্রি করতে পারবো না।
বড় ব্যবসায়ী হিসেবে
পরিচিত অসিম রায় ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী অসিম রায় জানান, দোকানে প্রতিদিন ৪০-৫০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। কেজি ৮৫-৯০ টাকা করে খুচরা বিক্রি করছেন তিনি। তবে তিনি স্টক করে পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন পেঁয়াজ আমদানি করে বিক্রি করছেন তিনি।
অপর বড় ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান মোল্লা বলেন, কিছুদিন আগে পেঁয়াজের দাম বাড়ার ফলে বাড়তি দামে পেঁয়াজ ক্রয় করতে হয়। তিনিও অস্বীকার করে বলেন তাদের কোনো স্টক নেই, পেঁয়াজ দিনে এনে দিনেই বিক্রি করছেন তারা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন, আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। যদি কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজ বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, বাজার মনিটরিং সেলের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদেরকে দ্রুত বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।