সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে সবজী চাষীরা পর্যাপ্ত টিএসপি সার পাচ্ছেন না। বরাদ্দ কম পাওয়া গেছে জানিয়ে সবজী মৌসুমে সিন্ডিকেট করে সারের দাম বাড়ানোরও অভিযোগ রয়েছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। ডিলারদের দাবি, সিন্ডিকেট করে মূল্য বাড়ানো হয় না, টিএসপি সার চাহিদার তুলনায় কম পাওয়ায় কৃষকদের চাহিদা মেটানো যায় না।
সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সবজী চাষ হয়। এর মধ্যে কেবল সীমের চাষ হয় দুই হাজার হেক্টর জমিতে। জেলার বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুর উপজেলায় সবজী চাষ বেশি হয়।
এই চার উপজেলায় প্রতিবছরের মতো এবারও আগাম সবজী চাষ শুরু হয়েছে। এখন চলছে শসা ও পাতি লাউয়ের চাষাবাদ। কয়েকদিন পরই টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ শীতকালীন সবজী চাষাবাদ শুরু হবে।
সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঘরে ঘরে সবজী চাষী রয়েছেন। এসব চাষীরা জানালেন, তাদের প্রত্যেকেরই একশ থেকে দুই’শ বস্তা সারের প্রয়োজন হয়। সার ছাড়া এখন কোন সবজী চাষ হয় না। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সার ব্যবহার করেন সকল কৃষকই। মৌসুমের শুরু এবং শেষের দিকে সার পেতে সমস্যা না হলেও, ভরা মৌসুমে ডিলাররা সিন্ডিকেট করে সারের দাম বাড়িয়ে দেয়।
সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুরের কৃষক মো. খুরশেদ আলম বললেন, আমার কমপক্ষে ২০০ বস্তা সার লাগে। বেশি লাগে টিএসপি সার। এখন কৃষকরা শসা-লাউ ইত্যাদি চাষ করছেন। কয়েকদিন পরই শুরু হবে টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ শীতকালীন সবজী চাষ। ওই সময়ে প্রতিবছর সিন্ডিকেট করে প্রতি বস্তা সারের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে টিএসপি সার কম পাওয়া গেছে, বরাদ্দ
কম দিয়েছে বলে বস্তা প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে বেশি দাম নেওয়া হয়। তিনি জানালেন, গত সবজী মৌসুমেও ১০০ বস্তা সার চড়া দামে কিনতে হয়েছে তাকে। একই ধরনের মন্তব্য করলেন সৈয়দপুরের কৃষক মোহাম্মদ আলী।
সুরমা ইউনিয়নের সার ডিলার আব্দুল আলী বললেন, আমি সার তুলে আনি মল্লিকপুর সার গোদাম থেকে বা ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা থেকে। মল্লিকপুরে বা ফেঞ্চুগঞ্জে সার পাওয়া না গেলে ভৈরব-আশুগঞ্জ থেকে আলাদাভাবে সার কিনে এনে হলেও বাজার ঠিক রাখি আমরা। সিন্ডিকেট করে কখনোই সারের দাম বাড়ানো হয় না। টিএসপি সারের চাহিদা অনেক বেশি। যে পরিমাণ সারের চাহিদা রয়েছে তার অর্ধেক সারও বরাদ্দ হয় না। এই কারণে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী টিএসপি সার দেওয়া সম্ভব হয় না।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সফর উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জে টিএসপি সারের চাহিদা ১৪ হাজার মে.টন, বরাদ্দ পাওয়া গেছে আট হাজার মে.টন। ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন করে বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যেই তারা সার বিক্রি করেন। সিন্ডিকেট করে কোন ডিলার সারের দাম বাড়িয়ে দিলে যে কোনো ক্রেতাই জেলা প্রশাসক বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বরাবরে বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে, জামানত বাজেয়াপ্তসহ ডিলারশিপ বাতিল হবে।