সিপিডির সংলাপ, সমস্যার-সমাধান আছে, কেন হয় না, সেটি খুঁজতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার
‘হাওর অঞ্চলের জীবন-জীবিকা: সরকারি পরিষেবার ভূমিকা’ নিয়ে সুনামগঞ্জে আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা বলেছেন, সমস্যা নিয়ে কথা হয়, সমস্যা সমাধানের পথও পাওয়া যায়, কিন্তু কাজ আর হয় নাÑএটাই এখন বড় সমস্যা। কেন কাজ হয় না, সেটিই খুঁজে বের করতে হবে।
সেন্টার ফল পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এই সংলাপের আয়োজন করে। স্থানীয়ভাবে সংলাপ আয়োজনে সহযোগিতা করে স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।
সংলাপে সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত হাওর এলাকা থেকে আসা লোকজন তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, হাওর ও হাওর এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে বড় বড় প্রকল্প হয়, কিন্তু কাজ হয় না। হাওর এলাকায় কর্মসংস্থানের অভাব, কৃষি, শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, জলমহাল ব্যবস্থাপনাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। হাওরের মানুষ ধান ও মাছের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কৃষকেরা এখন ধানের ন্যায্য দাম পায় না। হাওরের ভাসানপানিতে মাছ ধরতে পারে না প্রকৃত জেলেরা। হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ উজার হয়ে যাচ্ছে। মাছের উৎপাদন কমছে। হাওরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। সর্বোপরি হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে দুর্নীতি রোধ করতে হবে।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যর সভাপতিত্বে সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সুনামগঞ্জে নারী আন্দোলনের নেত্রী শীলা রায়। স্বাগত বক্তব্য দেন স্যানক্রেড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তপন রুরাম। র্নিধারিত বিষয়ের ওপর বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ রিচার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।
সংলাপে সিডিপির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন,‘স্থানীয়ভাবেই পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সব কাজে স্থানীয় মানুষজনের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ আমাদের সকলের, আমরা সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নেব। কাউকে বা কোন অঞ্চলকে পেছনে রাখা যাবে না।’
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ জেলা পর্যায়ে সরকারে বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিক যেন কম সময়ে, কোনো ঝামেলা ছাড়াই বিনা ফিতে বা নির্ধারিত ফিতে কাঙ্খিত সেবা পান সেটি নিশ্চিত করার লক্ষেই সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা কাজ করছেন। সংলাপে উত্থাপিত মতামত বা পরামর্শগুলো বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয়ভাবে সেগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মতিউর রহমান, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি মো. শফিকুল আলম, জেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ খান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দিলোয়ার করিম, সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সদস্য ফৌজি আরা বেগম, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য, কলেজ শিক্ষক রবিউল ইসলাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী শাহ শাহেদা আক্তার, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা, ইউপি সদস্য মল্লিকা বেগম ও মতিউর রহমান, আনোয়ারা বেগম, মানবাধিকার কর্মী ফজলুল হক, উন্নয়ন কর্মী সালেহীন শুভ, অ্যাডভোকেট মহসিন, হারুনুর রশিদ খান প্রমুখ।