সিভিল সার্জনের নিষেধাজ্ঞার পর হাসপাতাল ছাড়লেন ডাক্তাররা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র দিতে নিষেধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ব্যবস্থাপত্র দেওয়ায় এখানকার ৫ জন চিকিৎসককে রোববার ব্যবস্থাপত্র প্রদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস। এরপর সন্ধ্যায় ওই হাসপাতাল ছেড়ে ডাক্তার-কর্মচারীরা চলে গেছেন।
হাঁটুতে ব্যথা নিয়ে রোববার উপজেলার বীরগাঁও গ্রামের জাহির মিয়া (৫০) নামের একজন রোগী পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে যান। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একজন চিকিৎসক ওই রোগীকে সেবনের জন্য ৬ প্রকারের ব্যাথানাশক ওষুধ ব্যবস্থাাপত্রে লিখে দেন। ওই রোগী রোববার ফার্মেসিতে ওষুধের জন্য এলে ফার্মাসিস্ট হতভম্ব হয়ে পড়েন। পরে তারা বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. নুরুল ইসলামের কাছে এই ব্যবস্থাপত্র দেখালে তিনি তা বাতিল করেন।
ডা. নুরুল ইসলাম এই ব্যবস্থাপত্র নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা বাজার অফিসে গিয়ে জানতে চান এই ব্যবস্থাপত্র কে দিয়েছেন? অফিসের লোকজন জানান, এটি হাসপাতালের ডাক্তার নির্ঝর মন্ডলের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র।
ডা. নুরুল এতো ব্যাথানাশক ওষুধ একজন রোগীকে দেওয়া ঠিক হয়েছে কী-না, এমন প্রশ্ন করলে নির্ঝর মন্ডল ভুল স্বীকার করেন।
খবর পেয়ে বিকালেই সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস পাগলা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান। ওখানে থাকা চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান করতে নিষেধ দিয়ে আসেন তিনি।
সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ বললেন, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)’র রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনভাবেই কোন চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দিতে পারেন না। পাগলা গণস্বাস্থকেন্দ্রে ওই ৫ জন ডাক্তার বলেছেন তারা বিএমডিসিতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছেন। আমি বলেছি রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার আগে কোন ভাবেই যেন ব্যবস্থাপত্র না দেন তারা। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সন্ধ্যায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সরেজমিনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা গিয়ে দেখেছেন,‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিছানাপত্র গুছিয়ে অফিস ছাড়ছেন।
কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নজরুল ইসলাম বললেন, চিকিৎসা প্রদান করতে নিষেধ দেওয়ায় তাদের ডাক্তার কর্মচারী সকলে চলে যাচ্ছেন। বিএমডিসি’র রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কীভাবে ডাক্তাররা ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন, এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে রাজি হননি তিনি।
ডাক্তার নির্ঝর মন্ডল বলেন, ‘আমার জানার ভুলে এটি হয়েছে, এ কারণে আমি সকলের কাছেই স্যরি বলেছি।’