সিরিজ বোমা হামলার বিচার অবশ্যই হবে -পরিকল্পনামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বলেছেন, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপি সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার বিচার অবশ্যই হবে। সব অপঘটনারই বিচার হবে। তবে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং আইনের মাধ্যমেই বিচার করতে হবে। আমরা আইনের বিচারে বিশ্বাসী। এর জন্য ধৈর্য্য প্রয়োজন, সহিষ্ণুতা প্রয়োজন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র এই ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা রয়েছে। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন এদের বিচার হবে। যারা ১৪ বছর আগের আজকের এই দিনে সারাদেশের ৬৩ জেলায় গ্রেনেড হামলা করেছিলো, তারা সমগ্র জাতিকে জানান দেবার অপচেষ্টা করেছিলো যে তারা অন্যায় কাজে নামছে। তাদেরকে আমরা খোঁজে বের করবো। যতদিন লাগে বর্তমান সরকার অপরাধীদেরকে বের করবে এবং তাদেরকে উচিত শাস্তি দেওয়া হবে। আইনে যে শাস্তি পাবার, তারা তা পাবে।
শনিবার দুপুরে ‘নারী শিক্ষার অগ্রগতি: প্রেক্ষাপট, সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ, সুনামগঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ ২০১৯ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন,‘এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ, ন্যায় বিচারের বাংলাদেশ। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এই বাংলাদেশকে উলট পালট করে গড়বো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত এই বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। তিনি এই স্বপ্ন নিয়ে বসে থাকেন না। তার সাথে আমরা যারা কাজ করি আমরা সবাই কাজ করছি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর পরাগ কান্তি দে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্, পরিকল্পনামন্ত্রীর সহধর্মীনি জুলেখা মান্নান, জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায়, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যাক্ষ নীলিমা চন্দ, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস।
বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্ বলেন,‘আমাদের আজকের আলোচনা সভায় মহিলা কলেজের অনেক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি আজকে দীর্ঘ বক্তব্য রাখবো না। এই কলেজের অধ্যক্ষ সাহেব অনেক সমস্যার কথা বলেছেন কিন্তু এই কলেজের অনেক অর্জনও তো আছে। এই কলেজকে ১৯৯৭ সালে জাতির জনকের কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারিকরণ করেছিলেন। শিক্ষা প্রকৌশলী তার বক্তব্যে বলেছেন, ৬তলা ভবনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর বলেছেন জেলা শহরে ৬তলা নয় ১০তলা ভবন হবে। আমাদের ডান পাশের খোলা মাঠের সয়েল টেস্ট করা হয়েছে। এবং এটি নিশ্চই আনন্দের সংবাদ। আজ থেকে ১০ বছর ১২ বছর আগে কেউ চিন্তা করেছেন কিনা এই কলেজের ক্যাম্পাসে একটি বিশাল ১০তলা একাডেমিক ভবন হবে, লিফটে শিক্ষার্থীরা উঠানামা করবে? সেই কাজগুলো এখন হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমার সামনে এইচএমপি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বসে আছেন। আমি গতবার প্রথম সংসদ সদস্য হবার পরেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কম্পিউটার ল্যাব দিয়েছি। এমনকি আমার সেই সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়কে যখন বলেছি কম্পিউটার ল্যাব নাও, তারা বললেন বিদ্যুৎ নেই। আমি বলেছি সোলার দিয়ে কম্পিউটার ল্যাব চালাবো। পরে আমরা বিদ্যুৎও সেখানে উদ্বোধন করেছি। এই সরকার সারা বংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করেছে। ইনশাল্লাহ এই কয়েকদিনের ভেতরেই এই কলেজে একটি কম্পিউটার ল্যাব হবে।
এছাড়া আরোও বক্তব্য রাখেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল হাকিম, মৌলভিবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহিবুল ইসলাম, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরী ভট্টাচার্য্য, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাছুদ জামান লিটন প্রমুখ।