সিলেটে বুমেরাং হওয়া জামায়াত কৌশল

বিএনপি প্রার্থী স্বয়ং ভোটের আগে জামায়াতকে পাত্তা দেননি। তিনি সঠিকভাবে অনুধাবন করেছিলেন বলেই বলতে পেরেছিলেন, সিটিতে জামায়াতের ভোট ১০ হাজারের বেশি নয়। বাস্তবে ভোটের পর তাঁর কথারই সত্যতা প্রমাণিত হল। সিলেটে জামায়াতের সাথে গাঁটছড়া না বাঁধায় বিএনপির অনেক সুবিধা হয়েছে। সিলেটে ধর্মীয় পরিচয়ে সংখ্যালঘু হিসাবে পরিচিত অংশের ভাল ভোট বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন, অন্তত কিছু কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এমনটি দেখা যায়। এছাড়া সিলেটের প্রগতিশীল ও সুশীল মহলসহ সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মীদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোটও বিএনপির বাক্সে পড়েছে। জামায়াত জোটে থাকলে এই ভোট তিনি পেতেন না। বলা বাহুল্য জামায়াতের ভোটের চাইতে ওই ভোটের সংখ্যা অনেক বেশি।
জামায়াত রাজনীতি যারা ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তারা মনে করেন, এই দলটির কাছে ক্ষমতার চাইতে বড় আর কিছু ন্ইে। ধর্মীয় আদর্শের যে চাদর তারা গায়ে জড়িয়ে রেখেছে সেটি একটি সাইনবোর্ড মাত্র। মূলত তাদের রাজনৈতিক আচরণে ধর্মীয় ভাবাদর্শের প্রতিফলন দেখা যায় সামান্যই। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা বা নিজেদের ব্যবসাপাতির স্বার্থে দলটি যখন যার কাছে যাওয়া প্রয়োজন তার কাছেই যেয়ে থাকে। ভোটের রাজনীতিতে কিছু সংখ্যক ভোট ধারণ করে থাকার কারণে অন্য প্রধান দলগুলোও এতদিন তাদেরকে এক ধরনের মূল্যায়ন করত। সম্ভবত এখন মূলধারার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াত সম্পর্কে এই মোহ কেটে যাবে। সিলেট সিটি নির্বাচনের ফলাফল এই রাজনৈতিক মেরুকরণকে ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি স্পষ্ট করে তুলবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
দেশের প্রধান ধারার রাজনৈতিক দলগুলো জামায়াতসহ সাম্প্রদায়িক বৃত্ত মুক্ত হোক, এমনটিই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। আর এই প্রত্যাশার জায়গাটি যদি সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দিয়েই শুরু হয় তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।