সিলেটে মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মদিন পালন

সিলেট অফিস
সিলেটে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা, সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী বা মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের জিমনেশিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিলেটস্থ ভারতের সহকারী হাই কমিশন।
জন্মদিনের এ অনুষ্ঠানে অহিংস আন্দোলনের জনক মহাত্মা গান্ধীর জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোকপাত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিন্দ্য কু-ু কর্তৃক অঙ্কিত মহাত্মা গান্ধীর একটি পোট্রেট ছবি উন্মোচন করা হয়।
সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার শ্রী এল কৃষ্ণমূর্তির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এমপি।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের শিকার হয়ে নিজ দেশ ভারতে এসে গান্ধী অসাম্প্রদায়িকতার জন্য কাজ করতে থাকেন। তিনি চেয়েছেন সমাজের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ একসাথে মিলেমিশে থাকুক। তাদের মধ্যে যে সকল বিভেদ আছে তা দূর হোক। তিনি (গান্ধী) একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে যখন দেখেন সবকিছু অপরিচ্ছন্ন, এমনকি টয়লেটও, তিনি তখন নিজেই পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করতেন।
তিনি আরও বলেন, লবণশিল্পে যখন ভারতে দুরবস্থা তিনি তখন এ শিল্প রক্ষার জন্য আন্দোলন করেন। ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা অর্জনে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
বঙ্গবন্ধু গান্ধীকে অনুসরণ করতেন উল্লেখ করে মানিক বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আমাদের মুক্তির পথ সুগম করেছিলেন।
তিনি বলেন, ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন আরও বাড়ে, ঠিক তেমনিই আমাদের দেশেও যেন সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন সিলেট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের সহকারী পরিচালক ডা. আরমান আহমদ শিপলু, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ, সমাজকর্ম বিভাগের ডিন অধ্যাপক ফায়জাল আহমেদ, এমসি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রজত কান্তি সোম, রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী চন্দ্রনাথ আনন্দ মহারাজ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সিলেট উইমেনস মেডিকেল কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মাসুদুল আলম, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সিদ্ধার্থ পাল, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দেবনাথ, মদন মোহন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক সালেহ আহমদ, এমসি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক অরুল পাল এবং মুক্তিযোদ্ধারা।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ইনোভেটর্স বই পড়ুয়া ক্লাবের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।