সিলেট আওয়ামী লীগের জাতি গঠনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বেশ ভাল কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শুক্রবার তারা ‘বঙ্গবন্ধুমানস: ধর্ম ও মানবতা’ শীর্ষক একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যেখানে চার ধর্মের চার জন ধর্মগুরু আমন্ত্রিত হয়ে বক্তব্য রেখেছেন। ধর্মগুরুগণ নিজ নিজ ধর্মীয় আদর্শের আলোকে মানবতার পক্ষে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। বক্তারা বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনে জনগণই ছিল সব। তিনি একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, সোনার বাংলা গড়তে তিনি নিজের জীবনের সব সুখ ত্যাগ করেছেন। বঙ্গবন্ধু সব সময় বলতেন, বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই।’ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের এই আয়োজনটি আমাদের নজর কেড়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে যথেষ্ট সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগকে আমাদের প্রাণখোলা অভিনন্দন।
বঙ্গবন্ধু মনে-প্রাণে অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর আহ্বানে যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল তাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। মূলত পাকিস্তান সৃষ্টির যে দর্শনÑদ্বিজাতিতত্ত্ব, সেটিকে অস্বীকার করেই বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম এগিয়েছে। আটচল্লিশ সন থেকেই বাঙালির প্রগতিশীল জাতীয়তাভিত্তিক চেতনার উন্মেষ। বঙ্গবন্ধু এই চেতনাকেই লালন করেছেন। সুতরাং বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে যেয়ে তাঁর অমর আদর্শগুলোকেই তো সবার আগে স্মরণ করতে হবে। তাঁর আদর্শিক পথে প্রত্যাবর্তনের অঙ্গীকার ভিন্নœ আর সব ধরনের আয়োজনই নিছক লোক-দেখানো আনুষ্ঠানিকতা রূপে বিবেচনাযোগ্য। বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এমন কোনো ছোট্ট উদাহরণ পাওয়া যাবে না যেখানে তিনি ধর্মীয় পরিচয়ে জাতিকে বিভক্ত করতে চেয়েছেন। বরং তিনি সারা জীবন বাংলার হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলকে সৌহার্দ্যরে বন্ধনে আবদ্ধ করে একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছেন। আর এজন্যই তিনি সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অন্যতম রাষ্ট্রীয় মূলনীতি রূপে অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য জাতির, বঙ্গবন্ধু নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মতো সময় পাননি। জাতি-বিরোধী পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা দেশ স্বাধীনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে সেই স্বপ্নের অকাল মৃত্যু ঘটিয়েছিল। পচাত্তরের পর আবারও দেশটির আদর্শিক পশ্চাদপসরন ও বিভাজন কাল শুরু হয়। এর কুফল ভোগ করেছে পুরো রাষ্ট্র দীর্ঘ কয়েক দশক। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সনে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে নেয়ার যে কাজ শুরু করে তা আজকের সময়ে এসে অনেক দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছেছে।
যার যার ধর্ম পালন করে সকলে মিলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করাই অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের পরিচয়। ধর্মীয় জিগির তুলে নাগরিকের নিরাপত্তা বিনষ্ট করার মত হীন রাজনৈতিক অভিলাষ পৃথিবীর অন্যতম প্রবঞ্চনা। এই ধরনের কর্মকা-ের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের রাজনীতি করে কিছু অপশক্তি। সর্বশেষ ভারতের দিল্লীর ঘটনা তার বড় প্রমাণ। এতে যে জাতির শক্তি ভিতর থেকে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় সেই বিবেচনা করে না উদ্দেশ্য-সন্ধানীরা। পুরো জাতি যখন এক থাকে তখন সেই জাতিকে কেউ ‘দাবায়ে’ রাখতে পারে না। সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া বর্তমান বাংলাদেশ এর বড় প্রমাণ। তাই রাষ্ট্র, সরকার, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজ; সকল স্তরে ব্যাপকভাবে অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির চেতনা ছড়িয়ে সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করাই উপযুক্ত কর্মপন্থা। সিলেট আওয়ামী লীগ এই দায়িত্ব বেশ ভালভাবে অনুধাবন করেছে। তাদের এই দৃষ্টান্ত সর্বত্র অনুসৃত হোক আরও বেশি করে।