সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াত কেন্দ্রীক মেরুকরণ

সিলেট সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির নিজেদের জনসমক্ষে নিয়ে আসছে এবং দলীয় প্রার্থীর প্রচার প্রচারণাকে উপজীব্য করে রাজনৈতিকভাবে একটি অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করছে। দলীয় বৈশিষ্ট্য অনুসারে ক্যাডার ভিত্তিক এই দলটি নিজেদের জাহির করতে সর্বাবস্থায় শক্তিপ্রয়োগকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াত শিবিরের এমন শক্তি প্রদর্শনের উৎকট খবর মিলছে। শুক্রবার সিলেট মহানগরীর নূরাণী আবাসিক এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন একটি রেস্তুরায় শিবির ক্যাডাররা প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও সুবিদবাজার ও হাউজিং স্টেট এলাকায় জামায়াত শিবির ক্যাডারদের শক্তি প্রদর্শনের মহড়াও প্রত্যক্ষ করা গেছে। জাতীয় দৈনিক সমকালের অনলাইন ভার্সনে রবিবার ‘সিলেটে হঠাৎ সশস্ত্র শিবির’ শিরোনামে সিটি নির্বাচনকেন্দ্রীক তাদের সশস্ত্র অভ্যূদয়ের বিষয়টি নিয়ে বেশ খোলামেলা একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ হয়েছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য জামায়াত-শিবির সবসময়ই এক বিষফোড়ার নাম। এরা রাজনীতিতে অপ আদর্শ, টাকা ও শক্তির খেলা দেখিয়ে ক্ষমতার কাছাকাছি যেতে চায়। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যখন যে ধরনের আচরণ দরকার তাই করতে এরা অভ্যস্ত। তাই সিলেটে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার সাথে তাদের ঐতিহাসিক সখ্যতার কথা নিদারুণ হতাশা নিয়ে সকলেই চেয়ে চেয়ে দেখেন। বলা হয়ে থাকে, সিলেটে জামায়াত নিজস্ব প্রার্থী দেয়ায় বিএনপির অসুবিধার চাইতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সুবিধা হয়েছে বেশি। এই ধারণাটির পিছনে অতীতে জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপাতিতে আওয়ামী নেতাদের অংশীদারিত্বের বাস্তবতা কাজ করে থাকে। অন্যদিকে জামায়াত আলাদা নির্বাচন করে যেমন সিলেটের রাজনীতিতে বিএনপিকে চাপে ফেলে একদিকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি দেখানোর মওকা তৈরি করেছে তেমনি সরকারী দলকেও এর মধ্য দিয়ে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে তাদের অনুগ্রহভাজন হতে চাইছে। জামায়াত যে পরিমাণ ভোটই পাক, জামায়াত প্রার্থী না থাকলে সেই ভোট বিএনপির বাক্সেই ঢুকত। সুতরাং জামায়াত প্রার্থী দিয়ে আওয়ামী প্রার্থীকে সুবিধা করে দিয়েছে বলে সাধারণ্যে যে ধারণা তাকে অমূলক বলার উপায় নেই।
জাতীয়ভাবে জামায়াতের বিএনপি ঘনিষ্ট তৎপরতা আর সিলেটে বিএনপির সাথে বৈরি ভাব তৈরি করা তাদের রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। ঐতিহাসকিভাবেই তারা এ ধরনের দ্বিমুখী আচরণে অভ্যস্ত। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির জন্য হতাশার বিষয় হলো, জামায়াতের এই কৌশলকে কেউ রাজনৈতিক দৃঢ়তা নিয়ে মোকাবিলা করতে পারছে না। সিলেটের সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর এক সপ্তাহ বাকি। এই সময়ে জামায়াত-শিবির আরও হিংসাত্মক হয়ে উঠবে। তারা নিজেদের গ্রহণযোগ্য করতে একটি ন্যূনতম সংখ্যক ভোট পেতে মরিয়া হয়ে যাবে। আর এ কারণে এরা অঢেল অর্থ ছড়াবে, শক্তি প্রদর্শন করবে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা যদি এই বিপদ সম্পর্কে সচেতন না হন তাহলে সকলেরই ক্ষতির কারণ হবে। সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অগ্রগতির ধারাটি।
জামায়াত-শিবির নিজেদের প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্র দ্বারা দেশের প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রভাবিত করতে অভ্যস্ত। নানা সময়ে এই জায়গায় সফলতাও পেয়েছে তারা। জামায়াত নামে রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ, গোলাম আজমের নাগরিকত্ব লাভ, আওয়ামী লীগ-বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনের সুযোগ, বিএনপির সাথে জোটবদ্ধভাবে মন্ত্রীত্ব লাভ; এর সবকিছুই তাদের সফলতার উদাহরণ। শুধু ২০০৮ সনে ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে আওয়ামী লীগ তাদেরকে কোণঠাসা অবস্থায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এখন স্থানীয় রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে যদি জায়গায় জায়গায় জামায়াতের উত্থান ঘটতে থাকে তাহলে যুদ্ধাপরাধের বিচার করে যতটুকু অর্জন হয়েছিল সেটুকুও বিসর্জন হতে থাকবে।