সীমান্তে কড়া নজরদারী বিজিবি-পুলিশের

বিশেষ প্রতিনিধি
রাজধানীর আদালত চত্বর থেকে ছিনতাই হওয়া মৃত্যুদ-ের দুই জঙ্গির একজনের বাড়ি সুনামগঞ্জ। একারণে সীমান্ত জেলা সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সীমান্তরক্ষি বাহিনীও। জেলার ছাতককে আরও বেশি নিরাপত্তার ছাদরে ডাকা হয়েছে।
ছাতকের কালারুখা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মইনুল ইসলাম ওরফে শামীমের সাংগঠনিক নাম সিফাত, সামির ও ইমরান। তাঁর বাবা মৃত আবদুল কুদ্দুছ মারা গেছেন অনেক আগেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে ২০১০ সালে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট থেকে একটি নিষিদ্ধ ইসলামী সংগঠনের প্রচারপত্র বিলির সময় স্থানীয় লোকজন শামীমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই সময় ছাতক থানায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। একপর্যায়ে শামীম অস্থায়ী জামিনে মুক্তি পায়। পরে উচ্চ আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সে স্থায়ী জামিন পায়। জামিন পেয়ে ছাতক থেকে পড়াশুনার জন্য সিলেটে চলে যায় সে।
সিলেটে থাকা অবস্থায় বছরে দু-একবার বাড়ি আসলেও দুয়েক দিনের বেশি বাড়ি থাকতো না সে। এলাকাবাসীকে বুঝিয়েছিল, এসব সংগঠনের সঙ্গ ছেড়েছে সে।
শামীমের চাচাতো ভাই ছাতকের মাধবপুরের বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সায়েম আহমদ জাবেদ বললেন, বাড়ির পাশের হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালে এসএসসি পাস করার পর ছাতক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে শামীম। ছাত্রজীবনে মেধাবী ও বিনয়ী ছিল সে। কলেজে পড়াশুনার সময়ই ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিলেন। এর বছরখানেক পর এলাকায় প্রচার ছিল শামীম এসব সংগঠনে আর জড়িত নয়। পরে সিলেটের মদন মোহন কলেজে ব্যবসা বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হয় সে। ওখান থেকেই সে আবারও নিষিদ্ধ ইসলামী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের কেউ সেটি বুঝতে পারেন নি। খুব কমই বাড়িতে আসতো। আসলেও এক দুই দিনের বেশি থাকতো না।
এলাকাবাসী জানতো, শামীম ওই পথে আর নেই। একপর্যায়ে ঢাকায় মুক্তমনা লেখকদের উপর হামলার ঘটনায় তাঁর জড়িতের বিষয়টি প্রকাশ হলে এলাকাবাসী বুঝতে পারে জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গেই রয়ে গেছে শামীম।
শামীমের বাবা আব্দুল কদ্দুছ ১২ বছর আগেই মারা গেছেন। পরিবারে ছয় ভাইবোনের মধ্যে শামীম সবার ছোট। বড় ভাই আবু জাফর টিপু ছাতক শহরে একসময় রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করতেন। বর্তমানে দুবাই আছেন তিনি।
অপর দুই ভাই নাজমুল হাসান লিটু ও মঞ্জুরুল হাসান মনজু যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। দুই বোনেরই বিয়ে হয়ে গেছে।
বাড়িতে বৃদ্ধ মা, তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী, চার ভাতিজা-ভাতিজি রয়েেেছ।
ইউপি সদস্য জাবেদ জানান, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে মাধবপুর গ্রামে পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, ডিবি পুলিশসহ নানা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর আনাগোনা। তঁকে সময় দিতে হচ্ছে, তাদের সঙ্গে খোঁজ খবর নিচ্ছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন।
শামীমের মা সকলকেই জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে শামীম গ্রেপ্তার হবার পর কারা কর্তৃপক্ষ কয়েকবার তার সঙ্গে তার ছেলেকে ফোনে কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন। করোনা শুরু’র পর থেকে কথা কম হচ্ছে।
এদিকে, জঙ্গী শামীমের বাড়ি সুনামগঞ্জে হওয়ায় পুরো জেলার সীমান্তজুড়ে নজরদারী কঠোর করা হয়েছে। ছাতকসহ পুরো জেলায় পুলিশকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
ছাতক থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, উপজেলার কারারুখা ইউনিয়নের মাধবপুরে রবিবার বিকাল থেকে কয়েকবার তিনি গেছেন। পুলিশের নজরদারীতে আছে পুরো কালারুখা ইউনিয়নসহ ছাতকের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রিপন কুমার মোদক বললেন, যেহেতু জঙ্গী শামীমের বাড়ি সুনামগঞ্জে। এই জেলায় অধিক সতর্কতার নির্দেশনা আছে। প্রত্যেক থানা ও ফাঁড়ির ইন্সপেক্টরদের সঙ্গে সতর্কতা জারির বিষয়ে সোমবার সভা হয়েছে। কোর্টে আসামী আনা নেয়ার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মাহবুবুর রহমান বললেন, ছাতক থেকে ধর্মপাশা পর্যন্ত প্রত্যেক সীমান্ত ফাঁড়িতে ছিনতাই হওয়া দুই জঙ্গীর ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হয়েছে। এই ধরণের সন্দেহজনক কাউকে সীমান্তের কাছাকাছি পেলে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এই সীমান্ত জেলায়ই শামীমের বাড়ি, পুরো সীমান্ত এলাকায়ই অতিরিক্ত সতর্কতার নির্দেশ আছে।