সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত যুবকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুরের বড়ছড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত যুবকের নাম দেলোয়ার হোসেন (২৮)। শনিবার সন্ধায় সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বুরুংগাছড়া গ্রামের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে আহত হয়েছিলেন তিনি। নিহত ব্যক্তি তাহিরপুর সীমান্তের বুরুংগাছড়া গ্রামের মো. রাশেদ মিয়ার ছেলে ।
জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে তাহিরপুরের উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বুরুংগাছড়া গ্রামের বাসিন্দা হনুফা বেগম সীমান্তের শূন্য রেখা অতিক্রম করে পাথর তুলতে যান। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে বিএসএফের টহলরত একসদস্য এসে উপস্থিত হন এবং তিনি মহিলাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এ ঘটনায় গ্রামের বাসিন্দারা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারতে থাকেন। বিএসএফের সদস্যরাও বাংলাদেশী নাগরিকদের ধাওয়া করেন। পরে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের ৫০ গজ ভেতরে এসে তিন রাউন্ড ছড়া গুলি করে। এতে বুরুংগাছড়া গ্রামের মো. রাশেদ মিয়ার ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেনের কোমরের নিচে গুলি লাগে। তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আহত হনুফা বেগমকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সন্ধায় সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেলোয়ারের মৃত্যু হয়।
দেলোয়ারের ছোট ভাই আমির হোসেন জানান, শনিবার সাড়ে পাঁচটায় ওসমানীতে বিএসএফের গুলিতে গুরতর আহত তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় (সন্ধা ৭ টায়) দেলোয়ারের লাশ ওসমানিতেই ছিল। আমির হোসেন জানান, তার ভাইয়ের দুই শিশুকন্যা রয়েছে ।
সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান (পিবিজিএম) জানালেন, গুলিবিদ্ধ দেলোয়ার মারা গেছেন এমন সংবাদ তিনিও কিছুক্ষণ হয় শুনেছেন। এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানী ও ব্যাটেলিয়ন পর্যায়ে শনিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত তিনঘন্টা পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। তারা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়াও ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে ১৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কাছে প্রতিবাদ লিপি দ্রতই পাঠানো হবে।