সুজনের ২০ দফা রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব

স্টাফ রিপোর্টার
‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক -সুজন এর আয়োজনে শুক্রবার বিকালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরীতে এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাথমিকভাবে ‘রাজনৈতিক সংস্কার প্রস্তাব’ শিরোনামে একটি সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে সুজন। গোলটেবিল বৈঠকে ২০টি রাজনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাবসমূহ তুলে ধরে সংগঠনটি। প্রস্তাবসমূহের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, নির্বাচনী সংস্কার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, সাংবিধানিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল, স্বাধীন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতি বিরোধী সর্বাত্মক অভিযান, যথাযথ প্রশাসনিক সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যম স্বাধীনতা, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংরক্ষণ, একটি নতুন সামাজিক চুক্তি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন, তরুণদের জন্য বিনিয়োগ, নারীর ক্ষমতায়ন।
সুজন জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাড. হোসেন তওফিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সম্পাদক মো. আলী হায়দর’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা সভাপতি ফারুখ মাহমুদ চৌধুরী। প্রধান আলোচক সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
আলোচক ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সদর নিগার সুলতানা কেয়া, আ: মজিদ কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম, মুদাচ্ছিব আলম, সংগঠনের তাহিরপুর উপজেলা সভাপতি সায়েদুল কিবরিয়া, সম্পাদক আবুল কাসেম, রাধিকা রঞ্জন, সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন সভাপতি একে.এম নাছার, অ্যাড.সফিকুল ইসলাম, ফেরদৌস আলম, আব্দুছ ছাত্তার, পৌর কমিটির সভাপতি মোস্তাক আহমদ, সুজন জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাহিনা চৌধুরী রুবি, জেলা জাসদ’র সাধারণ সম্পাদক সালেহীন চৌধুরী শুভ, সংগঠনের সদর উপজেলা সম্পাদক ফারুক আহমদ প্রমুখ।
বৈঠকে বক্তারা আরো বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনীতিকে কল্যাণমুখী আদর্শ ভিত্তিক ধারায় ফিরিয়ে আনার কোন বিকল্প নেই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আমাদের রাজনীতিতে চরম ভারসাম্যহীনতা এবং সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে অনেকবার আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে জাতিগতভাবে আমরা রাজনৈতিক সংকট সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলনকালে ‘রাজনৈতিক দলসমূহের পারস্পরিক আচরণবিধি’ (তিন জোটের রূপরেখা) স্বাক্ষর ছিল এই ধরণের উদ্যোগের একটি সফল পরিণতি। তবে রূপরেখা স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে উদ্যোগটি সফল হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা ছিল চরম ব্যর্থ। যে ব্যর্থতার দায়ভার আজও বহন করতে হচ্ছে, বারবার নিপতিত হচ্ছে গভীর সংকটে। আমরা মনে করি এই ধরনের সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। আর এ জন্য চাই, তিন জোটের রূপরেখার আদলে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর বা জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর। সুজন’র রাজনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবসমূহ জাতীয় সনদের প্রাথমিক খসড়া হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আশাকরি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাববে এবং একটি জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।