সুনসান শিল্প শহর ছাতক- বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় আসামী সাড়ে ৪শ’

বিশেষ প্রতিনিধি ও ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে নৌপথে চাঁদাবাজি ও ফেসবুকে কটুক্তি’র জের ধরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের বন্দুক যুদ্ধে ১ জন নিহত এবং ৯ পুলিশসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৪০ জন আহতের ঘটনার পর এখন সুনসান নিরব ছাতক পৌর এলাকা। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় প্রায় সাড়ে ৪ শ’ আসামী। পুলিশ ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যরা গা ঢাকা দিয়েছে।
বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ছাতক থানার ওসিসহ ৯ সদস্য আহত হবার ঘটনায় বুধবার ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য শামীম চৌধুরীসহ ৯৫ জনের নামোল্লেখ করে ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পুলিশ এসল্ট মামলা হয়। এই মামলায় শামীম চৌধুরীসহ তাঁর দেশে থাকা ৫ ভাই শাহীন চৌধুরী, সেলিম চৌধুরী, জামাল চৌধুরী ও কামাল চৌধুরী, ভাতিজা স¤্রাট চৌধুরী ও মাহির চৌধুরী এবং চাচা জয়নাল চৌধুরী এবং এই পরিবার ও তাঁদের স্বজনদের কমপক্ষে ২০ জন আসামী হয়েছে।
ছাতকের অন্য আরেক প্রভাবশালী পরিবার শামীম চৌধুরী’র বড় ভাই ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী’র সমর্থক হিসাবে পরিচিত সুনু মিয়া চৌধুরী’র পরিবারেরও অনেকেই এই মামলায় আসামী হয়েছেন। এই পরিবারের মধ্যে সুনু মিয়া চৌধুরী’র ছেলে সুমন চৌধুরী, সুনু মিয়া চৌধুরী’র ভাতিজা (এই অংশের নেতা) ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহীন চৌধুরী, কুহিল চৌধুরী, তানভির চৌধুরী ও শামীম চৌধুরীকেও আসামী করা হয়েছে। এছাড়া ছাতক পৌরসভার ৯ কাউন্সিলর এই মামলার আসামী। এরা হলেন- তাপস চৌধুরী, জসিম উদ্দিন সুমেন, সুদীপ দে, আখলাকুল আম্বিয়া সোহাগ, লিয়াকত আলী, ধন মিয়া, আছাব মিয়া, দেলোয়ার হোসেন ও নওশাদ মিয়া।
বন্দুকযুদ্ধের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ঠেলাগাড়ী চালক শাহাবুদ্দিনের মা ফাতেমা বেগমের বুধবার রাতে দায়ের করা মামলায় ১২ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
নামোল্লেখকৃতরা হলেন- ছাতকের সিংছাপইড়ের বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল, দোলোয়ার হোসেন, গৌছ মিয়া, এমদাদ হোসেন খোকন, শিপলু মিয়া, রুবেল তালুকদার জনি, লিটন, আব্দুল কাদির, আতিক, সুজন, সবিরুল হোসেন সাজু ও আকাশ দাস।
ছাতক থানার ওসি (অপারেশন) গোলাম মোস্তফা জানালেন,‘দুই মামলার আসামীদেরই গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
ছাতকের একজন জ্যেষ্ঠ বালু- পাথর ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার নদীতে চাঁদাবাজ দেখা যায়নি। সারাবছর এরা চলন্ত যানবাহন থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করতো।
মঙ্গলবার রাতে ছাতক আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, দুই সহোদর ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য শামীম চৌধুরী’র সমর্থকরা দুই গ্রæপে বিভক্ত হয়ে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ ঘটনায় একজন নিহত এবং থানার ওসিসহ ৯ পুলিশ গুলিবিদ্ধ হন। উভয়পক্ষের আহত হয় কমপক্ষে ৪০ জন।