সুনামগঞ্জবাসীর রেললাইনের স্বপ্ন অনেক পুরোনো

সুনামগঞ্জে রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়ে স্পষ্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। শুক্রবার শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে দ্ব্যর্থহীনভাবে তিনি বলেছেন, এই সরকারই জেলা সদরে রেললাইন সম্প্রসারণ করবে। সময় বেঁধে দিয়ে তিনি বলেছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যেই জেলাবাসীর এই স্বপ্ন পূরণ হবে। কাজে বিশ্বাসী একজন সজ্জন মন্ত্রী যখন কোন বিষয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দেন তখন সেটি হয়ে উঠে সকলের বিশ্বাসযোগ্য। এমএ মান্নান এমন এক ব্যক্তি যিনি কথার চাইতে কাজে বেশি বিশ্বাসী। তাঁর মত করে এত উন্নয়ন কাজ এই জেলায় ইতোপূর্বে কোন জনপ্রতিনিধিই করেননি। অনেক শাঁশালো প্রতিনিধি ছিলেন আমাদের, ধারে এবং ভারে শানানো ও ওজনদার রাজনীতিক অনেক দেখেছি আমরা। কিন্তু তাঁদের হাত দিয়েও এত উন্নয়ন কর্মকা- হয়নি, এক এমএ মান্নান গত এক দশকে যত কাজ করেছেন। মেডিক্যাল কলেজ, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং ইনস্টিটিউটের মত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে তাঁর কর্মঠ হাত ধরেই। এর বাইরেও যোগাযোগ, শিক্ষা, দারিদ্র বিমোচন প্রভৃতি জায়গায়ও দেখার মতো উন্নয়ন করে চলেছেন তিনি। তিনি সুনামগঞ্জকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে রয়েছে তার বিশাল পরিকল্পনা। একে একে তিনি সবগুলোই শেষ করে যাবেন। এ কথা এখন জেলার সকলেই বিশ্বাস করেন। মূলত জনপ্রতিনিধি কেমন হওয়া উচিত তিনি তার একটি অনুপম দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। এমন ব্যক্তির মুখ থেকে যখন তিন বছরের ভিতরে জেলা সদরে রেললাইন সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি শোনা যায় তখন সকলেই বিশেষভাবে আশান্বিত হন। ধন্যবাদ মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী আপনাকে, জেলাবাসীর একটি উল্লেখযোগ্য স্বপ্ন পূরণের ওয়াদা করার জন্য।
গণপরিবহন ব্যবস্থায় রেললাইনের বিকল্প কোন মাধ্যম নেই। নিরাপত্তা, সাশ্রয়, স্বল্প রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, অধিক যাত্রী ও মালামাল পরিবহন সক্ষমতা, সবকিছু মিলিয়ে রেলযোগাযোগ হলো অবিকল্প। সারা বিশ্বেই তাই রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা সমাদৃত। আমাদের দেশে পরিবহন ব্যবসায়ীদের বাধার কারণে স্বাধীনতার পর থেকে রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ থমকে পড়ে থাকে। দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে। ফলে মানুষের যাতায়াতের পরিমাণও বহুলাংশে বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সড়কপথের বাইরে যোগাযোগের আর কোন বলার মত ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। লোভী পরিবহন ব্যবসায়ীরা যাত্রী পরিবহনের নামে সাধারণ মানুষের গলা কাটছে। সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা। প্রতিবছর বিরাট সংখ্যক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতুুবরণ করছে, বরণ করছে পঙ্গুত্ব। এরকম প্রেক্ষাপটে সড়কপথের বাইরে সারা দেশে বিকল্প যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সড়কের বাইরে বিকল্প যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বলতে রেলপথকেই বুঝানো হয়ে থাকে। বর্তমান সরকার যাত্রী পরিবহনে রেলপথের গুরুত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে আগ্রহী হয়েছেন। তাই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে নানামুখী কর্মকা- হাতে নিয়েছেন। দ্রুতগামী রেলসার্ভিস চালু, রেলের বগির সংখ্যা বাড়ানো, এলিভেটেড এক্সপ্রেস চালু, পাতাল রেল চালু প্রভৃতি ওই কর্মকা-েরই অংশ। যেসব জায়গায় রেলপথ নেই সেখানে রেলনেটওয়ার্ক স্থাপনের উদ্যোগও এই কর্মকা-ের অন্তর্ভূক্ত।
সুনামগঞ্জবাসী রেললাইনের স্বপ্ন দেখছেন বহু আগে থেকেই। তাঁরা এই আকাক্সক্ষার কথা নানাভাবে সরকারের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিগোচরও করেছেন। কিন্তু আকাক্সক্ষার বাস্তবায়নে কেউ কিছু করেননি। অবশেষে এই দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান কবি ড. মোহাম্মদ সাদিক ও আমাদের সজ্জন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
তিনটি বছর এমন বেশি কিছু নয়। মাননীয় মন্ত্রী আমরা অপেক্ষায় থাকলাম আপনাকে নিয়েই আমরা জেলা সদর থেকে ট্রেনের বগিতে চাপতে চাই আর যেতে চাই স্থানান্তরে, দূরে-বহুদূরে।