সুনামগঞ্জের নেতাদের সাথে বৈঠক হয় নি কাদেরের

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট সার্কিট হাউসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই জেলা কমিটিতে পদবঞ্চিতরা হট্টাগোল করেছেন। এ কারণে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির নির্ধারিত বৈঠকই হয়নি। অবশ্য. বঞ্চিতরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ তুলে দিয়েছেন। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে বিভিন্ন দল থেকে আসা ৩৫ জন অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন। অথচ. ত্যাগীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় সিলেট সার্কিট হাউসের তিন তলায় কেন্দ্রীয় নেতারা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের জন্য প্রবেশ করেন। এসময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালেদ মাহমুদ চৌধুরী ও এনামুল কবির শামীম প্রবেশ করেন। তারা উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন জেলা কমিটি ও উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকরা ছাড়া অন্যদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। ঐ সময় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রইছ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন দিলীপ, আমির হোসেন রেজা, অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান সেলিম প্রমুখ কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নালিশ জানানো শুরু করেন। অ্যাডভোকেট রইছ উদ্দিন বলেন, আমাকে বিগত কমিটিতে সহ-সভাপতি ছিলাম, অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ বলেন আমি বিগত কমিটিতে সহ-সম্পাদক ছিলাম, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন আমি সদস্য ছিলাম, অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান সেলিম বলেন আমি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলাম, আমির হোসেন রেজা বলেন আমি দীর্ঘদিন হয় আওয়ামী লীগ করছি, আমার ভবনে সংগঠনের কার্যালয় আমাকে জেলা কমিটিকে রাখা হয়নি। অথচ. বিভিন্ন দল থেকে আসা ৩৫ জন অনুপ্রবেশকারীকে দলের জেলা কমিটির বিভিন্ন পদে রাখা হয়েছে। তারা এই কমিটি বাতিলের দাবি জানান। জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে এসময় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বঞ্চিতরা হট্টগোল শুরু করলে এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতারা সভা অসমাপ্ত রেখেই বের হয়ে নীচতলায় চলে যান।
আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন রেজা বলেন,‘আমরা কমিটির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, আমরা বলেছি এই কমিটি করার সময় অনৈতিক লেনদেনও হয়েছে। আমরা কমিটি বাতিলের দাবি করেছি।’
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল বলেন,‘ কেন্দ্রীয় নেতারা বাধা দেবার পরেও পদ বঞ্চিত কয়েকজন সভায় ঢুকে একের পর এক বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম শামীম কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছেন, অ্যাডভোকেট রইছ উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট আলী আমজাদকে বিগত কমিটিতে কো-অপ্ট করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। আমির হোসেন রেজা জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতা করায় বহিস্কার হয়েছিলেন, এখনো তা প্রত্যাহার হয়নি।’
নীচতলায় পরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি শ্লোগানও হয়েছে।
প্রসঙ্গত. ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সম্মেলনে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মতিউর রহমান ও ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে গত ১৬ মার্চ জেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।