সুনামগঞ্জের সীমান্ত পথ দিয়ে ছোলা ডাল যাচ্ছে ভারতে

বিশেষ প্রতিনিধি
ভারতে ছোলা-মটর ডালের মূল্য বেশি হওয়ায় সুনামগঞ্জ সীমান্তের নানা পথ দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে ঢুকছে বাংলাদেশের কৃষকদের উৎপাদিত ছোলা ডাল। গত নয় জানুয়ারি জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন বিশ^ম্ভরপুরের সীমান্ত পথ দিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ ছোলা ও মোটর ডাল ভারতে ঢুকছে জানিয়ে এগুলো ঠেকানোর দাবি করেন। তিনি বলেন, এভাবে চললে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। সুনামগঞ্জ বিজিবির অধিনায়ক এ প্রসঙ্গে বললেন, ‘ছোলা মোটরের অবৈধ পাচার ঠেকানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা হচ্ছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশের বাজারে এই সময়ে ছোলা মোটরের কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। সুনামগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ছোলা মোটর বিক্রি হয় বাংলাদেশী টাকায় ৬০ টাকা কেজি। এজন্য সুনামগঞ্জের বিশ^ম্ভরপুর সীমান্তের মৌয়াছড়া বাজারের পাশের গুচ্ছগ্রাম পয়েন্ট, রাজাপাড়া পয়েন্ট ও গামাইতলা পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন শত শত বস্তা ছোলা মোটর যাচ্ছে ভারতের মেঘালয়ে। সঙ্গে চানা এবং মুগের ডালও যাচ্ছে ওপারে। সিলেট, ভৈরব, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছোলামোটর সহ এসব ডাল এনে স্থানীয় কিছু চোরা কারবারি ওপারে পাচার করছে।
স্থানীয় এক তরুণ জানালেন, ছোলা মোটর ওপারে পাচার করে কেউ কেউ নগদ টাকার বদলে গাঁজা মদ এপারে আনছে। আবার কেউ কেউ নগদ টাকাও আনে।
ছোলা মোটর বা ডালের বস্তা কাটা তারের বেড়ার ওপারে পৌঁছানোর জন্য বিশেষভাবে মাচা তৈরি করা হয়। মাচার উপরে ওঠে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেই কাটা তারের ওপারে চলে যায় বস্তা। কেউ কেউ সীমান্ত সড়কের পাইপের ভেতর দিয়ে বাঁশ দিয়ে বিশেষ কৌশলে ওপারে পাঠায় বস্তা।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন সম্প্রতি বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন। গেল ৯ জানুয়ারি জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও তিনি এই বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, সন্ধ্যার পর পিকআপ ভ্যান ভর্তি করে ছোলা মোটরের বস্তা সীমান্তের সলুকাবাদ ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম এবং ধনপুর ইউনিয়নের রাজাপুর ও গামইরতলা পয়েন্টে যায়। ওখান থেকে এসব বস্তা ভারতে পাচার করা হয়। বৈধভাবে এসব ছোলা মোটর পাচার হলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেত সরকার। তিনি বিষয়টি নজরদারির মধ্যে এনে বৈধভাবে ছোলা মোটর রপ্তানি করার সুযোগ করে দেবার দাবি জানান। তিনি জানান, সীমান্তের লোকজন জানিয়েছেন, তাহিরপুরের লাউড়েরগড় থেকে সুনামগঞ্জের ডলুরা পর্যন্ত এই এই অবৈধ ব্যবসা হচ্ছে।
ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলী কালারচাঁন বললেন, ভৈরব, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব ছোলা মোটর আনেন স্থানীয় কিছু লোকজন। এরাই সুযোগ বুঝে ওপারে পাচার করেন। বিজিবির টহল দল দীর্ঘ পথ দেখভাল করার সময় কোনভাবে ফাঁকি দিয়ে সুযোগ বুঝে এই কাজ করে তারা।
তাহিরপুরের লাউড়েরগড় বিজিবি’র ক্যাম্প কমান্ডার ইয়াহিয়া বললেন, আমার ক্যাম্পের সীমানায় এই কাজ হচ্ছে না। আমরা কঠোরভাবে নজরদারি করছি।
বিশ^ম্ভরপুরের চিনাকান্দি বিজিবি’র নায়েক সুবেদার আনোয়ার হোসেন বললেন, তিন মাস হয় এখানে এসেছি, আগে হয়ে থাকলে জানি না, এখন কঠোর নজরদারী হচ্ছে, সীমান্তের ওপারে ছোলা মোটরসহ বিভিন্ন জাতের ডালের চাহিদা আছে। এই বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে। আমরা এই পণ্যের অবৈধ পাচার রোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।
সুনামগঞ্জ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মাহাবুবুর রহমান বললেন, সীমান্তে ছোলা মোটরসহ কোন পণ্যই অবৈধভাবে যাওয়ার বা আসার এখন সুযোগ নেই। বিজিবি কঠোরভাবে সেটি নজরদারী করছে, প্রচুর মালামালও আটক হচ্ছে।