সুনামগঞ্জে কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ, ৪ জনের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার|| সুনামগঞ্জে কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা, ৭ জনকে বেকসুর খালাসের রায় ঘোষণা করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলাসূত্রে জানা যায়, জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দীগেন্দ্র বর্মন ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী একটি এনজিওতে চাকুরী করতেন। ২০১২ সালের ৩১ আগস্ট দুপুরে অফিসের কাজে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরে আসেন তিনি। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে আসামী আনোয়ার হোসেন তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে বেড়ানোর কথা বলে তাহিরপুর সীমান্তের শাহ্ আরেফিন মোকামের পাশে নিয়ে যায়। মোকামের পাশের আখক্ষেতে নিয়ে ভয় দেখিয়ে তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় হঠাৎ করে পাশে থাকা আসামী শয়ফুল্লাহ, সাইদুর রহমান ও শফিকুল তাদেরকে ঘেরাও করে। একপর্যায়ে আসামী আনোয়ার হোসেনকে বেঁধে ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে তারা।

আসামী সেলিম, আনোয়ারুল আজিম আকাশ, মাফিনুর গণধর্ষণের ভিডিও চিত্রধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। পরে থানায় মামলা দায়ের হয়। আসামী শফিকুল, শয়ফুল্লাহ ও ছাইদুর রহমান ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশীট দাখিল করে। মামলা চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ আট জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করেন। সাক্ষ্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আদালত আসামী আনোয়ার হোসেন খোকন, শয়ফুল্লাহ, ছাইদুর রহমান ও শফিকুলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ জরিমানার সাজা প্রদান করেন। জরিমানার টাকা ভিকটিম ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাবে। রায় ঘোষণার সময় আসামীগণ উপস্থিত ছিল।