সুনামগঞ্জে ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি, তিন উপজেলার মানুষের ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তিনটি উপজেলায় শনিবার রাতে কালবৈশাখী হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের লাইনে গাছপালা পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এসব এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এ কারণে কোনো কোনো এলাকায় শনিবার রাত থেকে গতকাল রোববার দিনভর বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে মানুষজনকে।
শনিবার রাত ১০টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় ঝড় বয়ে যায়। এতে মানুষের ঘরবাড়ি ও গাছাপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো কোনো এলাকায় ঝড়ের প্রচন্ড বেগে গাছপালা ভেঙ্গে বিদ্যুতের লাইনে পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর এসব এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েন বিদ্যুতের গ্রাহকেরা।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরে ঝড়ের পর থেকে কয়েকটি এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শহরের বর্ধিত এলাকায় এই সমস্যা হয় বেশি। রোববার সকালে কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও শহরের মুহাম্মদপুর, বনানীপাড়া, আলীপাড়া, নবীনগর, ধোপাখালি এলাকা বিদ্যুৎহীন ছিল বিকেল পর্যন্ত। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব এলাকার মানুষজনকে নানাভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বনানীপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন,‘রমজান মাসের শুরু থেকেই বিদ্যুতের ভোগান্তিতে আছি। শনিবার রাত থেকে রোববার দিনভর বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে পানি নিয়ে। বিদ্যুৎ নাই তাই পানিও নাই। এমনতিইে গরমে প্রাণ যায়। তার ওপর বিদ্যুৎ নাই।’ একই এলাকার বাসিন্দা মবু মিয়া বলেন, তার ঘরের পিছনের একটি বড় গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে। পাশেই বিদ্যুৎ সরবাহের লাইন থাকায় সেটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ কারণে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
মুহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা জাকের আহমদ গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে চারটায় জানান, শনিবার রাত ১০টা থেকে বিদ্যুৎ নাই। প্রায় ২০ ঘণ্টা হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কি করছে বুঝতে পারছি না। অফিসে যোগাযোগ করলে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় না।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শনিবার রাতের ঝড়ে শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে গাছাপালা ভেঙ্গে বিদ্যুতের লাইনে পড়ায় এই সমস্যা হয়েছে। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সকাল থেকে লোকজন কাজ করছে।
ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায়। তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, শনিবার রাত ১০টা থেকে বিদ্যুৎ ছিল না। রোববার বিকাল দুইটায় এই উপজেলায় আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা স্বপন কুমার বর্মন বলেছেন, ঝড়ের পর তাদের উপজেলায় প্রায় ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না।
সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক অখিল কুমার সাহা বলেছেন, ঝড়ের পর থেকে যেসব এলাকার সমস্যা হয়েছিল সেখানে আমাদের লোকজন কাজ শুরু করেছে। তাই রোববার সকালেই অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ লাইন আবার চালু হয়েছে।