সুনামগঞ্জে ডায়ালাইসিস সেন্টার, মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে উঠুক এটি

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নতুন ডায়ালাইসিস সেন্টার উদ্বোধনের খবরটি আশাব্যঞ্জক। রবিবার সকালে আধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত ৫ শয্যার এই ডায়ালাইসিস সেন্টারটি উদ্বোধন করেন সদর আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। এ সংক্রান্ত খবর থেকে জানা যায়, ডায়ালাইসিস সেন্টারটি ভালভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একজন চিকিৎসক ও ১৫ জন নার্সকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুরু থেকেই এই সেন্টারটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। আমরা এই ডায়ালাইসিস সেন্টারটি অত্রাঞ্চলের কিডনি রোগীদের ভরসার স্থান হয়ে উঠুক এই কামনা করি।
দেশে এখন কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রচুর। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে কিডনি প্রতিস্থাপন না করেই ঔষধ ও ডায়ালাইসিস করে রোগীরা দীর্ঘমেয়াদে ভাল থাকতে পারেন। ডায়ালাইসিস করানো একসময় একটি কষ্টকর পদ্ধতি ছিল। এখন আধুনিক পদ্ধতিতে রোগীর যন্ত্রণা অনেক হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। অনেকেই নিয়মিত ডায়ালাইসিস করিয়ে থাকেন। সুনামগঞ্জে ডায়ালাইসিস করানোর ব্যবস্থা না থাকায় এতদিন রোগীরা সিলেট গিয়ে এই সেবা গ্রহণে বাধ্য হতেন। এতে রোগীর সময়, অর্থ ও কষ্ট অনেক বেড়ে যেত। স্বভাবতই কিডনি রোগীদের মানসিক অবস্থা দুর্বল থাকে। আর ডায়ালাইসিস নিতে হয় কয়েক দিন পর পরই। একজন রোগীর পক্ষে সিলেট বা ঢাকা যেয়ে নিয়মিত এই চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। অনেকেই মাঝপথে চিকিৎসা থামিয়ে দিতে বাধ্য হন। আবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীরা বাইরে যেয়ে ডায়ালাইসিস করানোর চিন্তাই করতে পারেন না। সুতরাং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। সদর আসনের সংসদ সদস্য উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে এই সেন্টার স্থাপনে সফল হয়েছেন। তাঁকে আমাদের অভিনন্দন। ডায়ালাইসিস সেন্টার এখন প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালেও স্থাপন করা জরুরি। সামনের দিনগুলোতে হয়তো উপজেলা পর্যায়ে এই সেবা বিস্তৃত হবে। চিকিৎসাসেবাকে যত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া যায় ততই দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মজবুত হয়ে উঠবে।
সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে ভুক্তভোগীদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। বিশেষ করে চিকিৎসক ও সেবিকাদের সেবাপরায়ণ মনোবৃত্তির অভাবটি প্রকটভাবে ফুটে উঠে। চিকিৎসাসেবার সাথে জড়িতদের যে সংবেদনশীল মনোবৃত্তি প্রয়োজন হয়, দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তার অভাব বেশি। একজন চিকিৎসক বা সেবিকা কেন রোগীর প্রতি পরিপূর্ণ দরদ ও ভালবাসা দেখাতে পারেন না তা নিয়ে রীতিমত গবেষণা হতে পারে। চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে রোগীর আধিক্যকে যথাযথ সেবা দানের অন্তরায় হিসাবে উল্লেখ করা হলেও কথাটি সর্বাংশে সত্য নয়। সেবাপরায়ণ মনোবৃত্তির বিষয়টি একটি নিয়মিত চর্চার বিষয় যা একসময়ে অভ্যাসে পরিণত হয়। যতক্ষণ একজন চিকিৎসক বা সেবিকা সেবা দানে নিয়োজিত থাকেন ততক্ষণ তিনি যদি ওই দরদি মন নিয়ে কর্তব্য সম্পাদন করেন তাহলে চিকিৎসাসেবার অবস্থা অনেকটাই উন্নত হত। চিকিৎসাসেবাদানকারীদের প্রশিক্ষণে মানবিকতা, সংবেদনশীলতা, সহমর্মিতা প্রভৃতি বিষয়গুলোকে যেমন গুরুত্ব দেয়া উচিত তেমনি প্রয়োজন তাদের সেবাকর্মকে নিবিড় নজরদারির মধ্যে রাখা। সেবাদানের মান যদি না বাড়ে তাহলে একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করার মধ্য দিয়েও রোগীরা খুব বেশি তৃপ্ত হতে পারবেন না। তাই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৫ শয্যার যে ডায়ালাইসিস সেন্টার কাজ শুরু করেছে সেখানে শুরু থেকেই আমরা একটি মানবিক পরিবেশ দেখতে চাই।
কিডনি রোগীদের শারীরিক যন্ত্রণা বেশি হয়। চিকিৎসাকেন্দ্রে এসে তারা যদি একটু সহনাভূতিশীল কথা শুনতে পায় তাহলে তাদের মানসিক ক্ষমতা বাড়বে। চিকিৎসকরা যে শুধু ঔষধ দিয়েই চিকিৎসা করেন তা কিন্তু নয়, তাঁরা কথা ও ব্যবহার দিয়েও রোগ উপশমে প্রভূত ভূমিকা রাখতে পারেন। আমরা এমন হৃদয়বান মানবিক চিকিৎসক ও সেবিকাদের মাধ্যমে এই ডায়ালাইসিস সেন্টারটির সার্থক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে উঠার আশা পোষণ করি।