সুনামগঞ্জে নদীর পানি অপরিবর্তিত, জনবসতিতে দুর্ভোগ বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে নদী উপচে পানি প্রবেশ করায় জনবসতিতে দুর্ভোগ বেড়েছে। জেলার ছাতকের ২০ শয্যার কৈতক স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পানি ওঠায় স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব নতুন পাড়া, শান্তিবাগ, কালিপুর, ষোলঘর, ওয়েজখালির বেশিরভাগ এলাকার সড়ক ডুবে গেছে। ঘরবাড়িতে ঘণ্টা থেকে হাঁটু সমান পানি। কোন কোন এলাকায় রিক্সা— গাড়ির বদলে চলছে ছোট ছোট নৌকা।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এবং উজানের মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত কম হলেও ঢলের পানি নামা অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। সুনামগঞ্জ শহরের হাসননগরের কিছু অংশ, শান্তিবাগ, পূর্ব নতুনপাড়া, কালিপুর সড়কে শুক্রবার সকাল থেকে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি ওঠেছে। কিছু কিছু ঘরবাড়িতেও ঘণ্টা থেকে কোমর সমান পানি। এসব এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে রিক্সা গাড়ির বদলে নৌকায় যাতায়াত করেছেন বাসিন্দারা। কেউ কেউ নিজের বাড়ী ছেড়ে পরিবার পরিজন নিয়ে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন।
শান্তিবাগের বাসিন্দা অঞ্জন চৌধুরী বললেন, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে মহল্লার সড়ক ডুবা শুরু হয়, ঘরেও পানি ওঠে। পরে রাতে সকলকে নিয়ে হাসননগর এলাকায় আশ্রয় নিয়েছি।
এদিকে, ঢলের পানিতে জেলার ছাতক, দোয়ারা, সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভপুরের নীচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
ছাতকের কৈতক ২০ শয্যা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার থেকে ঘণ্টা থেকে হাঁটু সমান পানি। কেন্দ্রের সামনের যোগাযোগ সড়কে কোমর সমান পানি।
কৈতক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সৈয়দুর রহমান জানালেন, হাসপাতালের ইমার্জেন্সি চিকিৎসা কক্ষ, আউটডোর, ডিউটি স্টেশন, ডিসপেনসারি, স্টোর রুম ও করোনা টিকা কেন্দ্রের কক্ষে ঘণ্টা সমান পানি। হাসপাতালের যাতায়াত সড়কে পানি ওঠায় ডাক্তার, নার্সসহ রোগীগণ যাতায়াত ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সুনামগঞ্জ শহরের বক্ষব্যাধি হাসপাতালেও ভবনে পানি ওঠেছে। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অতনু ভট্টাচার্য জানান, চিকিৎসা কেন্দ্রে দুই দিন ঘণ্টা সমান পানি ছিল। শুক্রবার পানি নেমেছে। তবে যাতায়াত পথে পানি রয়েছে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল্লাহ আল বেরুনি খান জানালেন, ছাতকের কৈতক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে, দোয়ারাবাজার পাণ্ডারগাঁও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ছাতকের একটি ও তাহিরপুরের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে পানি ওঠেছে। বিকল্প স্থানে স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা জানিয়েছেন বিকাল ৩টায় সুরমার পানি সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে যাচ্ছিল। ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৭৮ মিলিমিটার এবং মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, ছাতক দোয়ারার বন্যার্ত পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে জিআরের চাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই দুই উপজেলায় ৪০ টনসহ জেলার ১১ উপজেলায় ১৪০ টন চাল, নগদ ১২ লাখ টাকা এবং ২০০০ বস্তা শুকনো খাবার বিতরণের জন্য দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ সহায়তা বিতরণ অব্যাহত আছে জানালেন তিনি ।
ছাতক দোয়ারার সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেছেন সরকার দুর্গতদের পাশে আছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সকলেই সহায়তা পাবে।